খাগড়াছড়ির রামসু বাজারে জুম্মদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার এক বছর, বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ

আইপিনিউজ বিডি, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেস্ক রিপোর্টঃ খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার ও আশপাশের সেটেলার কর্তৃক জুম্ম বসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হতাহতের ঘটনার আজ এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এক বছর ধরে বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে খাগড়াছড়ির সিংহিনালা গ্রামে ১২ বছর বয়সী এক মারমা স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে সেনাবাহিনী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের আটক করে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং সাম্প্রদায়িক হামলায় সহযোগিতা করে।
ঘটনার সময় গুলি, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এতে কয়েকজন জুম্ম নিহত, অনেকে আহত ও নিখোঁজ হন। এছাড়া রামসু বাজার ও আশপাশের এলাকায় জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের অভিযোগও ওঠে। ঘটনার পর আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কয়েকজনকে একটি স্থানীয় সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি সদর এলাকার বিভিন্ন স্থানেও জুম্মদের ওপর সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের অভিযোগ করা হয়েছিল।
ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহত, আহত, নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পর যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
স্থানীয় জুম্ম জনগণের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি সহিংস ঘটনার পর শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত ছিল এবং কার নির্দেশ বা দায়িত্বে সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে—এসব বিষয়ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে খাগড়াছড়ির সিংহিনালা গ্রামে ১২ বছর বয়সী এক মারমা স্কুলছাত্রীকে সেটেলার কর্তৃক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদী জুম্ম ছাত্র-জনতা বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এই আন্দোলন সড়ক অবরোধসহ ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রূপ নেয়।


