জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নওগাঁয় র্যালি ও আলোচনা সভা

আইপিনিউজ বিডি, ৩ আগস্ট, ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদকঃ জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁয় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্যারিমোহন লাইব্রেরিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
র্যালিতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী যুব পরিষদ, আদিবাসী নারী পরিষদ, আদিবাসী সাংস্কৃতিক পরিষদ ও আদিবাসী ছাত্র পরিষদের বিভিন্ন স্তরের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
আলোচনা সভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহানের সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক নকুল পাহানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, কোষাধ্যক্ষ ও নওগাঁ জেলা সভাপতি মার্টিন মুরমু, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুরমু, নারী বিষয়ক সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রম, নওগাঁ জেলা সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার মুন্ডা এবং আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিকা মার্ডিসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানে পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন এবং পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তারা বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দেশের সমতলের আদিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে। ১৯৯৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি লংমার্চ, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পরও আদিবাসীদের আত্মপরিচয়, ভূমি অধিকার, মাতৃভাষায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতার এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তারা বলেন, আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্য দূর করা এবং আদিবাসীদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে।
আলোচনা সভা থেকে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন, ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি থেকে আদিবাসীদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
২. সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।
৩. রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৮) ধারা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।


