বিলাইছড়িতে জুম্মদের বসতঘর ভাঙার নির্দেশ, পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের অভিযোগ

আইপিনিউজ বিডি, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাঙ্গামাটি প্রতিবেদকঃ রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর ফারুয়া ইউনিয়নের তুমপাড়া ও গাছবাগান এলাকায় বসতবাড়ি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা এবং একটি নির্মিত ঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির বিরুদ্ধে। স্থানীয় জুম্ম জনগণের অভিযোগ, তাদের বসতভিটা থেকে সরিয়ে দিয়ে এসব এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুমপাড়া গ্রামে একটি বসতঘর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ২৬ ইসিবির পক্ষ থেকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে সড়ক নির্মাণের সময় ধসে যাওয়া রাস্তা সংস্কারের জন্য ২৬ ইসিবির তৎকালীন ওয়ারেন্ট অফিসার রঞ্জন চাকমা স্থানীয় পাহাড়িদের জায়গা থেকে মাটি কাটার অনুমতি চান। পরবর্তীতে ওই জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ করা যাবে—এমন শর্তে স্থানীয়রা মাটি কাটার অনুমতি দেন বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, মাটি কাটার পর সমতল হয়ে যাওয়া জায়গাটিতে পর্যটকদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়। পরে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের বিষয়ে সম্মতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে ২৬ ইসিবির ক্যাপ্টেন ইকবাল ওই জায়গাটিকে ‘জিরো পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নির্মিত বাড়িটি ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তুমপাড়ার ওই জায়গাটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বসতবাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় জুম্ম জনগণের মধ্যে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে একই উপজেলার গাছবাগান এলাকাতেও বসতবাড়ি নির্মাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২৬ ইসিবির ক্যাপ্টেন ইকবালের নির্দেশে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আয়ুব ও ওয়ারেন্ট অফিসার সুবেদার নাছিরের উপস্থিতিতে এলাকার ১১ জন হেডম্যান ও কারবারি, জুরাছড়ি উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সদস্য এবং ফারুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সদস্যকে ক্যাম্পে ডেকে সভা করা হয়।
সভায় গাছবাগান গ্রামের রাস্তা থেকে ৫০ হাতের মধ্যে নতুন কোনো বসতবাড়ি নির্মাণ করা যাবে না এবং ওই সীমার মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করা হলে তা ভেঙে দেওয়া হবে বলে ক্যাপ্টেন ইকবাল জানিয়েছেন—এমন দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের আরও অভিযোগ, পুরোনো কোনো বাড়ি ভেঙে গেলে সেটিও আর মেরামত করা যাবে না এবং ওই এলাকায় নতুন করে কোনো বসতি স্থাপন করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই এলাকায় স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস না থাকা সত্ত্বেও একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
গাছবাগান গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বসতবাড়ি নির্মাণ ও মেরামতের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে ধীরে ধীরে স্থানীয় জুম্ম জনগোষ্ঠী তাদের দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে পারে। তাদের অভিযোগ, ভবিষ্যতে এলাকাটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, বসতবাড়ি নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্মিত ঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশের কারণে তারা নিজেদের ভূমি ও বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় জনগণের ভূমি ও বসতভিটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


