উত্তরবঙ্গের আদিবাসী তুরি জাতিগোষ্ঠীর প্রথম জুডিশিয়ারিতে কাজল পাঁড়ে

আইপিনিউজ বিডি, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাজশাহীঃ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সিভিল জজ (সহকারী জজ)/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সমতলের আদিবাসী তুরি জাতিগোষ্ঠীর সন্তান কাজল পাঁড়ে (২৯)। তিনি তুরি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
‘পাঁড়ে’ তুরি জাতিগোষ্ঠীর একটি প্রচলিত পদবি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাই গ্রামের বাসিন্দা কাজল পাঁড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবনে তিনি আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যকরী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বিভূতিভূষণ মাহাতোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে কাজল পাঁড়েই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে সিভিল জজ (সহকারী জজ)/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর একজন তরুণের বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া তুরি জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। এটি উত্তরবঙ্গের আদিবাসী তরুণদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মাধাই গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা কাজল পাঁড়ের এই অর্জন তুরি জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তাঁর সাফল্যে স্থানীয় ও আদিবাসী শিক্ষার্থী-তরুণদের মধ্যে নতুন করে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে কাজল পাঁড়ে এখন বিচার বিভাগে যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন।


