সাজেক আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণে সহযোগিতার আহ্বান

আইপিনিউজ বিডি ২১ অক্টোবর ২০২৬, নিউজ ডেস্কঃ রাঙামাটির সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর ছুটে যান অসংখ্য পর্যটক। পাহাড়, মেঘ আর সবুজের অপরূপ দৃশ্যের কারণে সাজেক আজ দেশজুড়ে পরিচিত। কিন্তু পর্যটনের এই পরিচিতির আড়ালে রয়েছে এমন এক বাস্তবতা, যেখানে মৌলিক নাগরিক অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এখনো সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে পাহাড়ের বহু মানুষকে। এরই একটি উদাহরণ সাজেক আবাসিক বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন ও স্যানিটেশন সংকট নিরসনে বিদ্যালয়টির জন্য হোস্টেল নির্মাণে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সহায়তাপ্রত্যাশীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
২০২১ সালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় কমলাক গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভদ্র সেন চাকমার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের নির্বাহী কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।
বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক অনুমোদন না থাকায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে ২৮টি গ্রামের মানুষের আর্থিক সহযোগিতায়। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে স্থানীয় মানুষের এই উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে বিদ্যালয়টির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট। দুর্গম ও বিস্তৃত পাহাড়ী এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়। যাতায়াতের এই কষ্টের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হোস্টেল নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা। কিন্তু বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন এবং শিক্ষকদের বেতন জোগাড় করতেই সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হয়। ফলে হোস্টেল নির্মাণের মতো বড় ব্যয় বহন করা স্থানীয় গ্রামবাসীদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাজেকের পর্যটন উন্নয়ন ও সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি সেখানকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে সাজেকের পরিচিতি বাড়লেও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ ও আবাসন সংকটের মতো সমস্যাগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশে বসবাসরত মানবিক মানুষদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুবেল চাকমা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে একটি ক্রাউডফান্ডিং বা গণ-অর্থসংগ্রহ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সম্মিলিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করা গেলে হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসিক সুবিধা এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষেরও কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি।


