রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে “ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬” -এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

আইপিনিউজ বিডি, ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাঙ্গামাটিঃ গতকাল ৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি. রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের উদ্যোগে, কলেজে অধ্যয়নরত জুম্ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আয়োজিত “ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬”-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি সুমন চাকমা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ), রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাঞ্চনমালা চাকমা।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জ্ঞান চাকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সুষ্টি চাকমা এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কমিটির অপর সদস্য প্রিয়ন্তি চাকমা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দসহ রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
জনাব মো. মহিউদ্দিন বলেন, “মানসিক প্রশান্তি ও দৈহিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শরীর ও মন দুটোকেই সতেজ রাখে এবং চিন্তা-চেতনায় নতুন প্রাণশক্তি জোগায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে যেমন একতা, গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, তেমনি তাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা নেতৃত্বদানের সুপ্ত গুণাবলী বিকশিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, পড়াশোনা ও খেলাধুলার সমন্বয়ে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র সমাজ হলো ভবিষ্যৎ জাতি গঠনের কান্ডারী। তাই বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মানবিক গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠন করা সম্ভব। আর সেই আদর্শ জাতি ও দেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় তরুণ ছাত্রসমাজকেই মূল কাণ্ডারীর ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে।
সুমন চাকমা বলেন, “খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়। নিজের মেধা ও দক্ষতাকে উদ্ভাসিত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়াচর্চা অত্যন্ত জরুরি। পার্বত্য অঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে অনেক প্রতিভাবান জুম্ম খেলোয়াড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সুনাম কুড়িয়েছেন। পাহাড়ে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে আরও অনেক উদীয়মান ও প্রভাবশালী খেলোয়াড় উঠে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকাসক্তি ও নানা অপসংস্কৃতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। খেলাধুলার মতো ইতিবাচক চর্চা তরুণদের এসব সামাজিক ব্যাধি ও মন্দ পথ থেকে দূরে রেখে সঠিক ও সুস্থ মানসিকতার পথে চালিত করতে পারে।”
কাঞ্চনমালা চাকমা বলেন, “খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং এটি শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যমুখী হতে শেখায় এবং তাদের মধ্যে একযোগে ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। খেলার মাঠে একটি নির্দিষ্ট গোল বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যেমন দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, গভীর বোঝাপড়া ও পাস দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, ঠিক তেমনি বাস্তব জীবনেও যেকোনো বড় সাফল্য অর্জনে একতাবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের ১৩টি বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগ এবং স্নাতক (পাস) শ্রেণির জুম্ম শিক্ষার্থীরা এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় ডিগ্রী (পাস) ও অর্থনীতি বিভাগ। প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ এ ম্যাচে অর্থনীতি বিভাগকে ২-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ডিগ্রী (পাস) বিভাগ।
পরিশেষে, চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


