জাতীয়

রাঙ্গামাটিতে চাকমা কিশোরীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় পিসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আইপিনিউজ বিডি, ১৬ মে, ঢাকা প্রতিনিধিঃ আজ ১৬ মে ঢাকার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ”রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ৫নং বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী এক চাকমা কিশোরীকে মো: সাইফুল নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে” পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং তার পরবর্তীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

পিসিপি, ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পায়া ম্রো’র সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিপি, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কনেজ চাকমা। সমাবেশে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শ্রী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, বম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি লালরিথাং বম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়া চাকমা, পিসিপি, ঢাকা মহানগর শাখার সহ সভাপতি অভি চাকমা, পিসিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক পাতলাই ম্রো।

দীপায়ন খীসা বলেন, পাহাড়ে ধর্ষণের পর ধর্ষককে গ্রেফতার করা হলেও ধর্ষকরা কয়েক দিন আবার কারাগার থেকে বের হয়ে মুক্তভাবে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যে বিষয়টা প্রবল উদ্বেগের সেটি হলো একজন আদিবাসী কিশোরী তার বাড়িতে নিরাপদ না। রাষ্ট্রীয় এক সেমিনারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার রক্ষা করা সম্ভব না। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন, “মানবাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম সংসদ অধিবেশনে শ্রী এম এন লারমা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণার কথা বলেছেন। তাই তিনিই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। বিএনপির সরকার ৩মাস পার করলেও এখনও পর্যন্ত তাদের পূর্ব ঘোষিত আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশনের ধারণাটি দিতে পারেননি। সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে বসে আলোচনা করতে হবে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ কমিটি পূণর্গঠন করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, দেশে নতুন সরকার আসলেও দেশের সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আগের মতোই রয়েছে। সেই পুরাতন বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি। আমরা এমন এক অদ্ভুত দেশে বসবাস করছি, যেখানে একজন সন্তানহারা বাবা ছেলের মৃত্যুর জন্য বিচার চাইতে গেলে তাকে সুষ্ঠু বিচারের বদলে উল্টো কুকি-চীন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা দেওয়া হয়, এইদেশে অনিক চাকমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, বিনা বিচারে ৭৬৮ দিন পার হয়ে গেলেও ৮জন নারী সহ মোট ৫৭জন বম নাগরিক রাষ্ট্রীয় কারাগারে বন্দি হয়ে মৃত্যুর দিন গুণছে। দেশের একপ্রান্তে নিপীড়নের ব্যবস্থা জারি রেখে অন্যপ্রান্তে গণতান্ত্রিক রুপান্তরের আলাপ দেওয়া অর্থহীন।

রিয়া চাকমা বলেন, বাংলাদেশে সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কেউ কখনো ভূমিকা রাখেনা। বান্দরবানে হামে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে এবং অনেকে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। পাহাড় সমতলে আদিবাসীদের উপর ঘটা সকল নিপীড়নমূলক ঘটনাগুলোকে সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

লালরিথাং বম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারীরা সেটেলার বাঙালীদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। কিন্তু সেখানে প্রশাসন সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পারে না। সন্ত্রাসী টকমা দিয়ে বান্দরবানের নিরীহ বমদেরকে রাষ্ট্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে অন্ধকারে বসে মৃত্যুর দিন গুণছে।

কনেজ চাকমা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকে আদিবাসীদের উপর নির্যাতনের হাজার হাজার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আদিবাসীরা একটিরও সুষ্ঠু বিচার পায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তা যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যদি আমরা সুষ্ঠু বিচার না পাই, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম তরুণ সমাজে আশির দশকের বাস্তবতায় ফিরে যেতে বাধ্য হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশের পরে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

Back to top button