আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে “Indigenous Platforms -এ সংলাপ” বিষয়ক আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সংলাপের সুপারিশ বিজুবি চাকমার।

আইপিনিউজ ২৯ এপ্রিল, আন্তর্জাতিক সংবাদঃ বিজুবি চাকমা, Chittagong Hill Tracts Indigenous Peoples Council of Canada এর প্রতিনিধি হিসেবে, এজেন্ডা আইটেম ৫(এফ): “জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় প্রতিষ্ঠিত আদিবাসী প্ল্যাটফর্মসমূহে সংলাপ [ইন্টারেক্টিভ সংলাপ]” বিষয়ে ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বক্তব্য প্রদান করেন, United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues এর ২৫তম অধিবেশনে।
তার বক্তব্যে বিজুবি চাকমা বলেন: “আমি বিজুবি চাকমা, Chittagong Hill tracts Indigenous Peoples Council of Canada-এর পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছি। জাতিসংঘের আওতায় প্রতিষ্ঠিত আদিবাসী প্ল্যাটফর্মগুলো এমন একটি জায়গা, যেখানে আদিবাসী জনগণ ভয় ও হুমকি ছাড়াই তাদের অধিকার তুলে ধরতে পারে। এটি United Nations Declaration on the Rights of Indigenous Peoples UNDRIP-এ বর্ণিত আদিবাসীদের অধিকারকে শক্তিশালী করে।
আদিবাসীদের কণ্ঠস্বর প্রভাবশালী সমাজ ও কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রায়ই দমিত হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি আমাদের কণ্ঠস্বরকে শোনার একটি পথ তৈরি করেছে, তবে আদিবাসী জনগণের জন্য সমতা প্রতিষ্ঠায় এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।”
তার বক্তব্যের পর বিজুবি চাকমা জাতিসংঘের প্রতি, বিশেষ করে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫ তম অধিবেশনের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন—
১. জাতিসংঘের স্বেচ্ছা তহবিল ( UN Voluntary Fund) শুধু উন্নয়নশীল দেশের অংশগ্রহণকারীদের নয়, উন্নত দেশের অংশগ্রহণকারীদেরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তিনি কানাডা থেকে নিজ খরচে এসেছেন, যদিও তিনি একজন শিক্ষার্থী এবং বেকার। তার সম্প্রদায়ের অনেকেই আর্থিক, ভিসা জটিলতা এবং নিরাপত্তা আশঙ্কার কারণে অংশ নিতে পারেন না। তিনি তার মাতৃভূমির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছেন, তবে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে জুম্ম জনগণের জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণে বড় বাধা।
২. জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের অধিবেশন চলাকালীন একই দেশের সংঘাতপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সংলাপ আয়োজনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের এর জুম্ম জনগণের প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। জাতিসংঘ এই দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম বা কক্ষ প্রদান করতে পারে।
৩. বিশ্ব ব্যাংকের উচিত প্রতি বছর UNPFII এ একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা, যেখানে আদিবাসী অধ্যুষিত সংঘাতপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি এবং তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে।
৪. United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues -এর উচিত পূর্ববর্তী বছরে আদিবাসী জনগণের দেওয়া বক্তব্যগুলোর প্রেক্ষিতে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা।
৫. বিশ্বব্যাপী আদিবাসী অঞ্চলে প্রতি বছর যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, সেগুলো UNPFII -এ উপস্থাপন করা উচিত, যাতে আদিবাসী জনগণ বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে এবং তাদের মর্যাদা ও অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়।

Back to top button