আন্তর্জাতিক

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাথে বৈঠকের অস্বীকৃতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের

আইপিনিউজ বিডি, ১১ মে, আন্তর্জাতিক সংবাদঃ ভারত ও নেপালের মধ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা (কৈলাস মানস যাত্রা) লিপুলেখ পাস দিয়ে পরিচালনার বিষয়ে ভারত ও চীনের সিদ্ধান্তে কাঠমান্ডু তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। এই ইস্যু কূটনৈতিক পর্যায়েও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির দুইদিন ব্যাপী নেপাল সফর স্থগিত হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসে, এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বালেন শাহ ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বিতর্কের ফলে ভারত, নেপাল ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের লিপুলেখ ও কালাপানি সীমান্ত বিরোধ আবারও সামনে চলে এসেছে। নেপালের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারত ওই এলাকায় প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আসছে। লিপুলেখ পাস হয়ে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা পরিচালনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে নেপাল আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে। কাঠমান্ডুর দাবি, বিতর্কিত এই অঞ্চল নেপালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, তাই নেপালের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়।
কৈলাস ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বিক্রম মিশ্রি কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ভারত কাঠমান্ডু সফরের প্রস্তাবিত কর্মসূচি বাতিল করে। একই সময়ে ভারত নেপালকে আন্তর্জাতিক বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (International Big Cat Alliance) সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফর স্থগিত হওয়ার পেছনে দুটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, ভারতের বারবার অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান। দ্বিতীয়ত, নেপাল ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সীমান্ত বিরোধ, বিশেষ করে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত লিপুলেখ গিরিপথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া। নেপাল ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে।

তথ্য সুত্রঃ দ্যা কাঠমান্ডু পোস্ট

Back to top button