বান্দরবানে আলীকদমে দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হাম-রুবেলা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

আইপিনিউজ, ৪ মে, বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা এলাকায় হামের প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়ায় হাম-রুবেলা আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত সংরুং ম্রো (৭মাস), খতং ম্রো (৭), তুমতুম ম্রো (১২), য়ংরাও ম্রো (৯) এবং তাংতুই ম্রো (১১) সহ মোট ৫ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, গত দুই সপ্তাহ ধরে হাম-রুবেলা আক্রান্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রথম দফায় ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তীতে ভর্তিকৃত মোট ৪১ জন রোগীকে আলীকদম, লামা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে সুস্থতার জন্য বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন আশঙ্কাজনক উপসর্গ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে মোট ৩৪ জন রোগীকে আলীকদম উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের সার্বিক তত্ত্ববধান করছে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন।
উল্লেখ্য যে, আলীকদকম শহর থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। সেখান থেকে প্রতিটি গ্রামের দুরত্ব ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার। কুরুকপাতা বাজারে একটি মাত্র কমিনিউটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক রয়েছে। কিন্তু, সেখানে স্বাস্থ্য কর্মী না থাকায় সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ জানান দুর্গম স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও প্রশাসনের দুর্বল হস্তক্ষেপ ও অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে। দুর্গম এই প্রত্যন্তঞ্চলের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠীর বসবাস। বিগত সময়ে সেখানে কোন প্রকার হামের টিকা পৌছাইনি। যার ফলে প্রতিটি গ্রামে এখন হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকেও বঞ্চিত ওই এলাকার মানুষ।
অন্যদিকে, গত ৩ মে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে ভর্তি হওয়া রোগীর অভিভাবকদের আহার্য বাবদ খাদ্যশস্য বরাদ্দ প্রদানের জন্য আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত আবেদন পত্রে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক মেন থাব ম্রো স্বাক্ষর করেছেন।
