আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে “আদিবাসীদের সঙ্গে সংলাপ” বিষয়ে পিসিজেএসএস এর প্রতিনিধি প্রীতিবিন্দু চাকমা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও জেলে অন্তরীণ নিরীহ বমদের মুক্তির আহবান জানান

আইপিনিউজ, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) এর প্রতিনিধি প্রীতি বিন্দু চাকমা জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues (UNPFII) এর ২৫তম অধিবেশনে এজেন্ডা আইটেম ৫(ক): “আদিবাসীদের সঙ্গে সংলাপ (গোপন বৈঠক) [ইন্টারঅ্যাকটিভ সংলাপ]” বিষয়ে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বক্তব্য প্রদান করেছেন। UNPFII এর ২৫তম অধিবেশনটি জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউ ইয়র্ক এ ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শুরু হয়েছে এবং এটি ১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
এই অধিবেশনে পিসিজেএসএস এর তিনজন প্রতিনিধি চঞ্চনা চাকমা, অগাস্টিনা চাকমা এবং প্রীতি বিন্দু চাকমা অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণের পক্ষে পল্লব চাকমা (এআইপিপির মহাসচিব), ড. বিনোতাময় ধামাই (এক্সপার্ট মেকানিজম অন দ্য রাইটস অব ইন্ডিজেনাস পিপলস-EMRIP) এবং টনি চিরান (বাংলাদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ ফোরাম- BIYF) অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন।
তার বক্তব্যে প্রীতি বিন্দু চাকমা বলেন, “চুক্তি ও গঠনমূলক ব্যবস্থা ( treaties and constructive arrangement ) হলো আদিবাসী জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত মৌলিক আইনগত কাঠামো, যা ভূমি, সম্পদ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। জাতিসংঘের মানদণ্ডের ভিত্তিতে এগুলো প্রণীত এবং এগুলোকে তাদের মূল চেতনা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সম্মান ও বাস্তবায়ন করা উচিত। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার এবং আদিবাসী জুম্ম জনগণের মধ্যে এ ধরনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ (CHT Accord) নামে পরিচিত। কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পার হলেও এর দুই-তৃতীয়াংশ ধারা—বিশেষ করে মৌলিক ধারাগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”
বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমান এর নেতৃত্বে একটি বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার রাঙামাটি আসন থেকে নির্বাচিত একজন আদিবাসী সংসদ সদস্যকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে তার পাশাপাশি একই মন্ত্রণালয়ে একজন অ-আদিবাসী সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ দেশের সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও উক্ত প্রতিমন্ত্রীকে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গভীর বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করতে হচ্ছে যে, ২০২৪ সালে বান্দরবান জেলায় একটি ক্ষুদ্র সশস্ত্র বম গোষ্ঠী (Kuki Chin National Front (KNF) কর্তৃক একটি ব্যাংক লুটের ঘটনার পর বম আদিবাসী সম্প্রদায়ের ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যুবক, প্রবীণ, গৃহিণী, শিক্ষার্থী, এক গর্ভবতী নারী এবং তিন বছর বয়সী শিশুসন্তানসহ এক মাও ছিলেন। পরবর্তীতে ৮০ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও চিকিৎসার অভাবে ৩ জন মারা যান এবং এখনও ৫৯ জন কারাগারে আটক রয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা জুম্ম জনগণ এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের আস্থা রাখতে চাই। তাই স্থায়ী ফোরামের এই অধিবেশন থেকে আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন এবং নিরপরাধ বম জনগণকে অবিলম্বে মুক্তি দিন।

Back to top button