পার্বত্য মন্ত্রীকে মন্ত্রীপদে পুনর্বহালের দাবিতে খাগড়াছড়িতে নাগরিক সমাজের স্মারকলিপি পেশ

আইপিনিউজ বিডি, ৭ জুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ আজ (৭ জুন,২০২৬) খাগড়াছড়িতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে পুনর্বহাল এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে অন্যত্র পদায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটানোর মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয় লাভের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার তিন সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ২৯৯ নং রাঙ্গামাটি পার্বত্য আসন থেকে নিজ যোগ্যতায় বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন যা সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ীর মুকুট দিয়েছে তাঁকে। প্রত্যাশামতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। স্বভাবতই রাঙ্গামাটিবাসীর ন্যায় আমরাও অত্যন্ত খুশী ও আনন্দিত হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমরা কৃতজ্ঞ।
দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করে সর্বস্তরের জনগণের সাথে মত বিনিময় করে আসতেছেন এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করে জনগণের দোর গোড়ায় গিয়ে সরকারের সেবা পৌঁছিয়ে দেওয়ার কাজ চালিয়ে আসতেছেন। পাশাপাশি উন্নয়নের পূর্বশর্ত সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করার কাজও সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর এই নিরলস ও ধারাবাহিক কর্ম উদ্যোগ আমাদেরকে অনুপ্রানিত না করে পারেনা! পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “রেইনবো নেশন” প্রতিষ্ঠার স্বপ্নেও আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। কিন্তু দুঃখের সাথে যে কথা বলতে হয় তা হলো-মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় হঠাৎ করে বিগত ০১/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সামাজিক এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই সংবাদ আমাদেরকে কোনভাবেই স্বস্তি দেয়নি। আমরা অত্যন্ত হতাশ ও ব্যথিত হয়েছি।
এছাড়াও স্মারকলিপিতে আরও বলেন, তাঁর পদত্যাগের জন্য শারীরিক অযোগ্যতা কোন কারণ হতে পারে না। তাই এ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে এবং তাঁর এই দৃষ্টান্তমূলক অবদানের প্রতিদান স্বরুপ তিনি তাঁর মন্ত্রীত্ব ফিরে পাওয়ার পুনর্বিবেচনার দাবী রাখেন বিধায় এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় সুনজর দেবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের হাটহাজারী সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যে বিধি সম্মত হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যম ও মহল থেকে অপাত্তি উত্থাপিত হয়েছে সে বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করেন যে, সদ্য পদত্যাগকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্ব-পদে পুর্নবহাল করা এবং একই মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করার বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে বল দৃঢ় বিশ্বাস এবং বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।


