বিডিনিউজ ২৪’র প্রধান সম্পাদকের অকাল প্রয়াণে আইপিনিউজের শোক ও শ্রদ্ধা

আইপিনিউজ বিডি: বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে আইপিনিউজ বিডি পরিবার।
৫৯ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে লন্ডনের সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ দুপুর আড়াইটায় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদকের মরদেহ রাখা হয়। সাংবাদিক খালিদীকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানায় তার বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধির পাশাপাশি আইপিনিউজ বিডি পরিবার।
১৯৬৭ সালের ১৪ জুন জন্ম নেওয়া তৌফিক ইমরোজ খালিদী ১৯৮৯ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকায় কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করে সাংবাদিকতায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টারে কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার পর ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির বিজনেস এডিটরের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও উইকএন্ড সংস্করণের বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন খালিদী। সেখানে সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনার পাশাপাশি আলোচিত ‘ডিবেট’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এর আগে দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে সহকারী সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় কূটনীতি, বাণিজ্য, রাজনীতি ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন।
অনলাইন সাংবাদিকতায় নতুন ধারার সূচনা
বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এগিয়ে নেওয়া। ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ পরিবেশন ও অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে তাঁর ভূমিকা দেশের সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তনশীল যাত্রায় উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাশাপাশি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১০ সালের শেষ দিক থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত টেলিভিশনটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন।
বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সাংবাদিকতার অঙ্গনেও তাঁর কাজ স্বীকৃতি পায়। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সাউথ-টু-সাউথ মিডিয়া ডায়ালগে এশিয়া-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ১৪ জন শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মিডিয়া উদ্ভাবকের একজন হিসেবে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিনি। এ ছাড়া ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন। ২০১০, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে জার্মানির বনে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামেও অংশগ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রাইজিং’ শীর্ষক সম্মেলনে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।
গণমাধ্যম নীতিনির্ধারণেও সক্রিয় ভূমিকা
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের গণমাধ্যম নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির ২০১২ ও ২০১৫ সালের উদ্যোগে তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে বার্তা সংস্থাগুলোর নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এর আগে ২০০৭ সালে ঢাকার নদী রক্ষায় গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সেও দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাগত জীবনে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, অনুষ্ঠান নির্মাণ, ডিজিটাল সাংবাদিকতার প্রসার এবং গণমাধ্যম নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল।


