আঞ্চলিক সংবাদ

চট্টগ্রামে পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল – ২০২৬ অনুষ্ঠিত

আইপিনিউজ ডেস্কঃ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে চট্টগ্রামস্থ রেশমি কমিউনিটি সেন্টার হলে “আদিবাসী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন” শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য শরৎ জ্যোতি চাকমা, পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের সভাপতি জগৎ জ্যোতি চাকমা, আদিবাসী মহিলা ফোরামের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সোনাবি চাকমা, পিসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি আদর্শ চাকমা, পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা প্রমুখ।

পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার চাকমা এবং দপ্তর সম্পাদক জ্যোতিময় তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের সহ-সভাপতি অনিল বিকাশ চাকমা। উক্ত শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন পতেঙ্গা থানা শাখার সভাপতি জীবন চাকমা।

শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ এবং আদিবাসী মহিলা ফোরামের নেতৃবৃন্দ পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং নিজ নিজ শাখা কমিটির সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

শরৎ জ্যোতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজেরও অংশগ্রহণ আবশ্যক। অধিকারহারা বিভিন্ন সমাজব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকার আন্দোলনে শ্রমজীবী পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি জুম্ম জনগণের দুই দশকের একটি কষ্টে অর্জিত শ্রম, যেখানে মিশে আছে জুম্ম জনগণের রক্ত আর ঘাম। সেই অধিকারকে ধুলিস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র জুম্ম জনগণ কঠোর হস্তে দমন করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের মহান ব্যক্তিদের জীবন দর্শন আমাদের পাথেয় বিষয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের চিন্তার মধ্যে যে দন্দ্ব, সেই দন্দ্বের মধ্য দিয়েই অধিকার আন্দোলনের একটি নতুন পথ সূচিত হবে।

জগৎ জ্যোতি চাকমা বলেন, ১৯৮০ সালে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান লক্ষ লক্ষ সেটেলার অনুপ্রবেশ করিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে জটিল থেকে আরও জটিলতর করে তোলে। সেই সমস্যার আজ কয়েক দশক পেরিয়ে গেছে। অধিকারহারা জুম্ম জনগণের সেই ভাগ্য আজও পরিবর্তন হয়নি। সেই অধিকারহারা জুম্ম জনগণের এবং মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

সোনাবি চাকমা বলেন, অধিকার আদায়ের আন্দোলন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এই সংগ্রামে পুরুষের যেমন অংশগ্রহণ দরকার, তেমনি প্রয়োজন নারী সমাজের অংশগ্রহণ। আজ পার্বত্য চট্রগ্রামের বাস্তবতায় নারী নিপীড়ন, সহিংসতার মতো ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

তিনি বলেন, এই সময় চার দেয়ালের মাঝে বন্দী থাকার সময় নয়, বরঞ্চ এই সময়টা হলো পুরুষের সাথে সমান তালে হাতে হাত মিলিয়ে অধিকার আন্দোলনে সামিল হওয়ার সময়। তিনি বলেন, অধিকার কেউ কাউকে সহজে দেয় না, অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়। তিনি নারী সমাজকে সমাজের সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

আদর্শ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্রগ্রাম এক বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী যত নির্বাচিত সরকার এসেছে তারা জুম্ম জনগণের জন্য কাজ করার কথা বললেও প্রতিবার জুম্ম জনগণ প্রতারিত হয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রতি পার্বত্য চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে ৩টি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামে যে ভূমির বেদখল, ধর্মান্তরকরণ, নির্যাতন-নিপীড়ন, জুম্ম নারী হয়রানি আগের মতই চলমান। তিনি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অধিকতরভাবে আন্দোলনে সামিল হওয়ার জোর আহ্বান জানান।

রিবেক চাকমা বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এক অধিকারের নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। তৎকালীন চুক্তির মাধ্যমে জুম্ম জনগণের দীর্ঘ সময়ের বৈষম্যের অবসানের কথা থাকলেও চুক্তির পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে সরকার এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক সেই জুম্ম জনগণের অধিকারের চুক্তিকে বানচালের জন্য নানান চেষ্টা চলতে থাকে। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌলিক সমস্যাগুলো রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কথা থাকলেও সেটি আজও করা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদী সেনাশাসনের ফলে জুম্মরা আজ কোণঠাসা।

দ্বিতীয় অধিবেশনে শাখা কমিটির কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয় এবং সভাপতির বক্তব্যর মধ্য দিয়ে শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল ২০২৬ সমাপ্তি ঘটে।

Back to top button