পিসিপি রাবিপ্রবি’র ১ম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

আইপি নিউজ ডেস্কঃ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পিসিপি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির স্টাফ সদস্য রুমেন চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিসিপি কেন্দ্রীয় সদস্য সুনীতি বিকাশ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সদস্য এলি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজল চাকমা।
সম্মেলনে রাবিপ্রবি’র প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সনেট চাকমার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব পহেল চাকমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাবিপ্রবি’র প্রস্তুতি কমিটির সদস্য প্রায়াম খীসা।
সম্মেলনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এযাবৎকালে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথি রুমেন চাকমা বলেন, যুগে যুগে যতগুলো জাতি রয়েছে কালের বিভাজনে অন্যায় অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে জাতিগুলো লড়াই সংগ্রামে জড়িত ছিল এবং জাতির মুক্তি ও ক্রান্তিলগ্নে জাতির নিজস্ব সংগঠনগুলো এগিয়ে এসেছে ঠিক তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠা শুরু থেকেই অন্যায়ের বিরদ্ধে জাতীয় মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে জনগণের মুক্তির আকাঙ্খা লড়াই সংগ্রামে এখনো অবিচলিত।
তিনি আরও বলেন, সংগঠন একটি লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার, এজন্য আমরা আমাদের সেই অবিচলিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সংগঠনে যুক্ত হয়। আমাদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্যবহুল অধ্যয়ন করে সে জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে নিজেকে প্রস্তুত করার তাগিদ দেন।
সুনীতি বিকাশ চাকমা বলেন, মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যে প্রতিবাদের বীজ গজিয়ে দিয়েছিলেন, সেই বীজকে পরিচর্যা করে আমাদের আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কাজ সেদিন রুদ্ধ হবে যেদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। আর সেই চুক্তিকে বাস্তবায়ন করতে আমাদের মতো তরুণদের সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক পড়াশোনা করাটা মূখ্য বিষয় নয়, তাদেরকে চিন্তা-চেতনাকে বিকশিত করার মতো পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যেতে হবে।
এলি চাকমা বলেন, একটি জাতি বা সমাজ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। এজন্য তিনি ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একদিকে শাসকগোষ্ঠীর শাসনের কায়েম অন্যদিকে সমাজের নানা প্রতিক্রিয়াশীল সুবিধাবাদী চরিত্রের মানুষ বসবাস রয়েছে। এই সবকিছু ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করতে হবে। পড়াশোনা করে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমাদেরকে সমাজ তথা জাতির স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করা কথা বলেন।
সজল চাকমা বলেন, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামকে শাসকগোষ্ঠী সামরিক উপায়ে শাসনের কায়েম জারি রেখেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প দ্বারা ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। যে সেনাক্যাম্পগুলো চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যাহার করার কথা থাকলেও চুক্তির এত বছর পেরিয়ে গেলেও জুম্ম জনগণ এখনো সেনা ছাউনি থেকে মুক্ত হতে পারেনি। আর এই সেনা শাসন জিয়ে রাখার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে প্রতিহয়ত করার জন্য ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ চালিয়েছিলো সেভাবে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারও পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির জন্য, জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এম.এন লারমা ঘুণেধরা সমাজ ব্যবস্থার উপর আঘাত করে ঘুমন্ত জুম্ম জনগণকে জাগিয়ে তুলে আন্দোলন সংগ্রামের বীজ রোপণ করেছিলেন। বিজাতীয় শাসন-শোষণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এম.এন লারমা যে আন্দোলন শুরু করেছে ছাত্র সমাজকে সে আন্দোলন সংগ্রামে অধিকততরভাবে সামিল হতে হবে।
কাউন্সিল অধিবেশনে সনেট চাকমাকে সভাপতি, প্রায়াম খীসাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি গঠন করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মামুনি চাকমা।


