জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কর্মী সভা অনুষ্ঠিত, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি

আইপিনিউজ বিডি, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, রংপুরঃ জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক স্বাধীন ভূমি কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠনসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর জেলা সভাপতি বিমল খালকোর সঞ্চালনায় সাংগঠনিক কর্মী সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবি টুডু, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুরমু, দিনাজপুর জেলা সভাপতি শিবানী উরাও, গাইবান্ধা জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিট্রিশ সরেন, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক যোসেফ সরেন, সহ-সভাপতি উৎপল মিঞ্জ, রংপুর সদর সভাপতি নিল শিকারী, মিঠাপুকুর উপজেলা সভাপতি মোহন লাল কুজুর এবং পীরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আগস্টিন মিঞ্জ।
সভায় রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী ও সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের আদিবাসীদের তাদের নিজস্ব পরিচয় অনুযায়ী ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন এবং পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।
তারা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার ঘটনার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকার রক্ষায় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৭ ধারা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।
বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসীদের অধিকার ও দাবি আদায়ের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংগঠনের কার্যক্রম ও কর্মসূচি আরও জোরদারের মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ৩৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করা হয়।


