AIPP Indigenous Youth Agent of Change Award 2026 পেলেন রেং ইয়ুং ম্রো

আইপিনিউজ বিডি, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আন্তর্জাতিকঃ মালয়েশিয়ার সাবা প্রদেশে চলমান ৬ষ্ঠ ইন্ডিজেনাস নলেজ এন্ড পিপলস্ অব এশিয়া কনফারেন্সে এআইপিপি ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ এজেন্ট অব চেঞ্জ এওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশের আদিবাসী অধিকার কর্মী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সহ- সভাপতি রেং ইয়ুং ম্রো।
চিম্বুক পাহাড়ে আলোচিত পাচঁ তারকা হোটেল নির্মাণের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন ও আদিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এ পুরস্কারে ভূষিত হলেন তিনি।
Indigenous Knowledge and Peoples of Asia (IKPA) Conference এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী, সংগঠন, নারী, যুব ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সমাবেশ, যার মূল লক্ষ্য হলো আদিবাসী জ্ঞান, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির স্বীকৃতি, সংরক্ষণ ও প্রসার ঘটানো। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত IKPA নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সম্মেলন আদিবাসী জনগণের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নের আলোচনায় তুলে ধরে। সর্বশেষ ৫ম IKPA সম্মেলন গত ২৩–২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১৬টি দেশের ১৫৭ জন প্রতিনিধি ও সহযোগী অংশগ্রহণ করেন এবং বিশেষভাবে আদিবাসী নারীদের নেতৃত্ব, জ্ঞান ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্মেলনটি অভিজ্ঞতা বিনিময়, আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধি এবং আদিবাসী জনগণের অধিকার ও জ্ঞানভিত্তিক সমাধানকে নীতি ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ায় আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
এবারের কনফারেন্সটি ১৪ টি দেশের ১১৩ জন প্রতিনিধি নিয়ে মালয়েশিয়ার সাবা প্রদেশে গত ২৯ আগস্ট, ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রেং ইয়ুং ম্রোর পাশাপাশি আরও ৫ জন যুব এই এওয়ার্ডটি প্রাপ্ত হন। বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ড থেকে একজন করে সর্বমোট ৬ জন আদিবাসী যুব জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মানবাধিকার ও আদিবাসী জ্ঞান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এই এওয়ার্ড প্রাপ্ত হলেন।

উল্লেখ্য যে, বান্দরবান জেলায় ২০২০ সালের শেষদিকে চিম্বুক পাহাড় রক্ষার আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ আদিবাসী নেতৃত্বাধীন আন্দোলন হিসেবে গড়ে ওঠে। স্থানীয় ম্রো জাতিগোষ্ঠী তাদের পূর্বপুরুষদের ভূমিতে একটি বিলাসবহুল পাঁচতারকা হোটেল ও বিনোদন পার্ক নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করেন। আর এন্ড আর হোল্ডিংস লিমিটেড (R&R Holdings Limited) এবং আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই বাণিজ্যিক প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১,০০০ একর ঐতিহ্যবাহী জুম চাষের জমি অধিগ্রহণের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অবাধ, পূর্বানুমোদিত ও অবহিত সম্মতি (Free, Prior and Informed Consent—FPIC) নেওয়া হয়নি বলে সমালোচনা ওঠে। আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ ৩০ কি.মি. পদযাত্রা ও ব্যাপক সমাবেশের মাধ্যমে সতর্ক করেন যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানির উৎস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, ১০,০০০-এর বেশি আদিবাসী মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং তাদের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে চিম্বুক পাহাড় রক্ষার আন্দোলন শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পের বিরোধিতা নয়; বরং ম্রো জনগোষ্ঠীর ভূমি, জীবিকা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও অস্তিত্বের অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম হিসেবে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।


