জাতীয়

রংপুরের হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সংসদে বিবৃতি প্রদানের দাবি ঐক্য পরিষদের

আইপিনিউজ বিডি, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা প্রতিনিধিঃ রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক, চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মেলবে কোন পথে’—এই স্লোগানসংবলিত ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে প্রায় অর্ধসহস্রাধিক সংখ্যালঘু জনতা অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও। সমাবেশটি পরিচালনা করেন যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দীপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দীপংকর চন্দ্র শীলসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ চক্র নিজেদের হীন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ চরিতার্থ করতে রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল কিংবা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্যও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রংপুরের হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেই নয়, সারাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করছে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

তারা অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশে আগের মতোই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে গত জুলাই মাসে সারাদেশে অন্তত ৪১টি (আংশিক) সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ৬টি, ধর্ষণ ২টি, মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাট ১০টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন, আদিবাসীদের ওপর হামলা ৫টি, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট ১০টি, জোরপূর্বক জমি দখলের ঘটনা ২টি এবং অন্যান্য ঘটনা ৪টি।

Back to top button