আঞ্চলিক সংবাদ

আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পুনরায় চালুর দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

আইপিনিউজ বিডি, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, বগুরাঃ আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পুনরায় চালু এবং পড়াশোনা শেষে চাকরির ব্যবস্থা করার দাবিতে বগুড়ার শেরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় শেরপুর উপজেলা চত্বরে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বগুড়া জেলা কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে সাগর কুমার সিংয়ের সঞ্চালনায় এবং আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সুজন কুমার রাজভরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সন্তোস সিং বাবু, সহসভাপতি যুগেশ সিং, সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র কর্ণিদাস, শেরপুর উপজেলা সভাপতি স্বপন সিং, সাধারণ সম্পাদক হিরালাল সিং, নন্দীগ্রাম উপজেলা সভাপতি গৌতম চন্দ্র মাহাতো, শেরপুর উপজেলা উপদেষ্টা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন হক, ধুনট উপজেলার আদিবাসী নেতা পূর্ণ চন্দ্র রায় বাগদী ও সুবধন চন্দ্র সরকার।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন আদিবাসী ছাত্র পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি উত্তম কুমার সিং, উপজেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি বিপ্লব কুমার মাহাতো, সহসভাপতি সোহাগ কুমারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সমতলের আদিবাসীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তুরি, মাহাতো, বাগদী, সাঁওতাল, ভূমিজ, তেলী, বর্মণ, কোচ, মুসহর ও গঞ্জুসহ ১৫টিরও বেশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। অথচ এসব জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চর্চার জন্য এলাকায় কোনো আদিবাসী কালচারাল একাডেমি নেই।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পুনরায় চালু এবং শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বগুড়া জেলা কমিটির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও কমিটি বহাল থাকা সত্ত্বেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথাও জানানো হয়। এ বিষয়ে জেলা কমিটির সভাপতি সুজন কুমার রাজভর, সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার সিং এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নিত্য মালো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সুজন কুমার রাজভর বলেন, “আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি আদিবাসী ছাত্রসমাজের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐক্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম।” সংগঠনের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মানববন্ধন শেষে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণসহ দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন আয়োজকরা।

Back to top button