সাহিত্যে ঐক্যের সেতুবন্ধন: পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়-সমতলের আদিবাসী সাহিত্য উৎসব

আইপিনিউজ বিডি, ১৮ জুলাই, রাঙ্গামাটিঃ পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক, শিল্পী, গুণীজন এবং সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী আদিবাসী কবি-লেখক সম্মিলন ও সাহিত্য উৎসব। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ছয়টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে প্রায় ১৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি ও সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। উদ্বোধন করেন বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট কবি-লেখক ও দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরী সাহিত্যচর্চায় যুক্ত সনাতন হামোম। উদ্বোধনের আগে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে খেংগ্রং, বাঁশি, দুদুক, গেংখুলি ও শিঙ্গার সুরে বর্ণাঢ্য পরিবেশে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করা হয়। পরে প্রয়াত আদিবাসী কবি, লেখক, গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির সদস্য ইন্টু মনি তালুকদার।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিশির চাকমা। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরিশিরি নেত্রকোনা কালচারাল একাডেমির পরিচালক কবি ও লেখক পরাগ রিছিল এবং রাজশাহী বিভাগীয় আদিবাসী কালচারাল একাডেমির পরিচালক ও সংস্কৃতিকর্মী হরেন্দ্র নাথ সিং।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী ডাঃ অজয় প্রকাশ চাকমা (মেজর অবঃ), শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা অবঃ যুগ্ম সচিব, কবি লেখক উন্নয়ন কর্মী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক প্রাপ্ত খাগড়াছড়ি জেলা থেকে শ্রী মথুরা বিকাশ চাকমা, বান্দরবান থেকে আগত কবি ও লেখক শ্রী ক্যসা মং মারমা, লেখক ও অবঃ অধ্যাপক শ্রী মধুমঙ্গল চাকমা, চট্টগ্রাম থেকে আগত কবি ও লেখক হাফিজ রশিদ খান, কবি ও লেখক চিংহ্লামং চৌধুরী,কবি ও গবেষক আলম সাইফুল, লেখক ও প্রভাষক আনন্দ জ্যোতি চাকমাসহ অনেকে।

দপন ত্রিপুরা ও অকৃতা ধর দুই জনের পরিচালনায় কয়েকটি গান পরিবেশনের অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করে।
অনুষ্ঠানে মতামত তুলে ধরেন বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি কর্মী থুয়াসা প্রু খিয়াং, গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠী সভাপতি শ্রীমতি জয়তী চাকমা, লেখক গবেষক কবি জিরকুং সাহু, লেখক ও সহযোগী অধ্যাপক শ্রী বিপম চাকমা, লেখক অংছাইন চাকমা, কবি ও লেখক উনাইশৈ মারমা, আদিবাসী সংখ্যালঘু নেতা লোমা লুসাই, কবি ও লেখক শ্রী অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, এম এন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক শ্রী বিজয় কেতন চাকমা, বাঘাইছড়ি উপজেলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী অমর শান্তি চাকমা, কবি ও লেখক আয্যমিত্র চাকমা, লেখক ও কবি তনয়া ম্রো,কবি ও লেখক সাংবাদিক শ্রী পপেন ত্রিপুরা,বিশিষ্ট গুণীজন সলোক শশী চাকমা, লেখক ও সাহিত্যিক শ্রী কে ভি দেবাশীষ চাকমা, লেখক জ্ঞানদশী চাকমা, ও আয়োজন কমিটির সদস্য কবি ও লেখক মলয় কিশোর ত্রিপুরা ও লেখক প্রকৌশলী মোহিনী রঞ্জন চাকমা।
অনুষ্ঠানে রাঙা বেল চাকমার দুটি উপন্যাস ‘বিপাক জনম’ ও ‘জিংকানির কধা’, উনাইশৈ মারমার একটি উপন্যাস এবং মথুরা বিকাশ চাকমার কাব্যগ্রন্থ ‘রাইবতি’ ও চিংহ্লামং চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থ ‘চোরা বাঁক’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বক্তারা বলেন, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। এ ধরনের সম্মিলন পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। তারা তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নতুন লেখক তৈরি এবং দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী আদিবাসী সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞানন্ত তালুকদার। সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং স্বকীয় পরিচয় সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


