জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদন

হরিদাস চন্দ্র তরুনী দাসের আশু মুক্তির দাবিতে ঢাকায় ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

আইপিনিউজ বিডি, ১৯ জুলাই, ঢাকা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরুনী দাসের আশু মুক্তির দাবিতে ঢাকায় ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ জুলাই শনিবার সকালে ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে এক সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা।

সভায় বক্তারা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ কালী মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতায় রামমূতি নির্মাণ করতে চেয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কথিত অর্থপাচারের মামলায় গত ১২ জুলাই ২০২৬ রাতে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেশ কিছুকাল যাবৎ উগ্র সাম্প্রদায়িক মহল মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে এসেছে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে, যা সারা দেশজুড়ে অহেতুক ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। সরকার কর্তৃক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসানে তাদের বিরুদ্ধে কোনরূপ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সাম্প্রদায়িক হুমকির শিকার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য এবং তা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের নির্লজ্জতম পরিপন্থী। উল্লেখ্য যে, হরিদাস চন্দ্র তরুনী মন্দিরে দেব-দেবীর বিগ্রহ ছাড়াও বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ নানান জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানাদি স্থাপনের মাধ্যমে মানবিক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। সভায় বক্তারা অনতিবিলম্বে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের আশু মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয় যে, নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায় সমান অধিকার ভোগ করবে, কারো প্রতি বৈষম্য করা হবেনা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় নির্বাচন পরবর্তী চারমাসে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রায় প্রায় দুইশোটি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা, আদিবাসীদের উপর হামলা, কথিত ধর্ম অবমাননার নামে গ্রেপ্তারসহ অন্যান্য হিংসাত্বক ঘটনা ঘটেছে। যার কোনটিরই দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতাই আনা হয়নি।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অজয় চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ বসু, হেমন্ত আই কোরাইড়া, অতুল চন্দ্র মণ্ডল, কৃষ্ণ দাস, মঞ্জু রানী প্রামানিক, সজীব সরকার, এ্যাডভোকেট মিন্টু দাস, নির্মল চন্দ্র, মনোরঞ্জন রায়, পার্বতী রানী দাস, স্মরণ সাহা প্রমুখ।

এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা হলেন মিলন কান্তি দত্ত, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, প্রদীপ দাস, রমেন মণ্ডল, এ্যাড. দিপংকর ঘোষ, সুখেন্দু শেখর বৈদ্য, ব্রজ গোপাল দেবনাথ, এ্যাড. কিশোর কুমার রায় চৌধুরী পিন্টু, প্রাণতোষ আচার্য্য শিবু, এ্যাড. অপূর্ব ভট্টাচার্য্য, এ্যাড. তপু গোপাল ঘোষ, সুবীর চক্রবর্তী, বিপ্লব দে, উজ্জ্বল দত্ত, এ্যাড. তপন কুমার চক্রবর্তী, তাপস কুণ্ড, গিরিধারি সাহা, মি. থিওফিল রোজারিও, মি. ভিক্টর রে, বিশ্বম্ভর কুমার নাথ, লক্ষীকান্ত কর্মকার, অমল কৃষ্ণ সাহা প্রমুখ।

Back to top button