নাইক্ষ্যংছড়িতে সেটেলার কর্তৃক আদিবাসী চাকদের ধর্মীয় শ্মশানের জায়গা দখলের চেষ্টা: জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

আইপিনিউজ বিডি, ১১ আগস্ট, ২০২৬, বান্দরবানঃ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন চাক পাড়ায় দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি ধর্মীয় শ্মশানের জায়গা দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আদিবাসী চাক সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহ সৎকারের কাজে এই শ্মশানটি ব্যবহার করে আসছেন। ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় স্থানের জায়গা দখলের ঘটনায় স্থানীয় চাকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্থানীয় নূর মোহাম্মদ, পিতা-মৃত সিকান্দার আলী শ্মশানের জায়গাটিকে নিজের দাবি করে বেশ কিছুদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নূর মোহাম্মদের বাবা জীবিত থাকাকালীন এই জমি নিয়ে কখনো কোনো ধরনের বিরোধ বা মালিকানার দাবি উত্থাপিত হয়নি। অথচ সম্প্রতি প্রভাব খাটিয়ে শ্মশানের চারপাশের ঘেরা কেটে ফেলা হয়েছে এবং জমিটি দখলের প্রত্যক্ষ চক্রান্ত চলছে।
ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত ও দখলের এই চেষ্টায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় আদিবাসী চাক সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা জানান, শ্মশান কোনো ব্যক্তিবিশেষের সম্পত্তি হতে পারে না, এটি একটি পুরো সম্প্রদায়ের আবেগ, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অধিকারের অংশ। কোনো পক্ষের যদি বৈধ কোনো দাবি থেকেও থাকে, তবে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত, জোরজবরদস্তি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়।
ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় চাকরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন দায়ের করেছেন। তবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও শ্মশানের সীমানা প্রাচীর বা ঘেরা কেটে ফেলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, “দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি ধর্মীয় স্থান নিয়ে বারবার বিরোধ তৈরি হওয়ার পরও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে?”
ঘটনাটিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সামাজিক সংঘাত এড়াতে অবিলম্বে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা। আদিবাসী চাকরা সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও আইনি সমাধান চান।


