শেরপুরে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী গ্রামে হামলার অভিযোগ, আহত কয়েকজন

আইপিনিউজ বিডি, ১২ আগস্ট, ২০২৬, শেরপুরঃ আজ (১২ আগস্ট) বুধবার আনুমানিক ২ টায় শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার পূর্বগজারিকুড়া-বন্দধারা এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী মান্দি (গারো) জনগোষ্ঠীর গ্রামে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের আদিবাসীদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কিছু বাঙ্গালী আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় হামলার চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজনকে মারধর করে। পূর্ব গজারিকুড়ায় ৬ টি বাড়ি ভাংচুর, একটি বাড়ির আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ৪ টি গরু, ১০ টি ছাগল, একটি মোটরসাইকেল সহ দামি আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ এসেছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা অসীম ম্রংয়ের বাড়িতে কয়েকজনকে তালাবদ্ধ করে রাখার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গারো ছাত্র সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, আশপাশের গ্রামের কয়েকজন মানুষকেও আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে তারা ওই গ্রামের বাসিন্দা নন এমন কথা জানানো হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), স্থানীয় মিশনের পাল-পুরোহিত এবং গ্রাম কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। বাড়ির ভেতরে আটকে রাখা ব্যক্তিদেরও পরে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায় ১৯ জন গারোকে পুলিশের হেফাজতে নিয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তবে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। থানার বাইরে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাঙ্গালী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে পূর্বগজারিকুড়া এবং বন্দধারা গ্রামটিকে ব্লক করে দেয়া হয়েছে এবং এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া ও রাস্তায় আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে। এতে গ্রামের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের গারোদের দাবি, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পূর্বগজারিকুড়া এবং বন্দধারা গ্রাম ব্লক ও চলাচলে বাধার কারণে এখনও উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা মধ্যে রয়েছে।


