হবিগঞ্জের সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লিতে ভাঙচুরের অভিযোগ, বন বিভাগের ছত্রছায়ায় আদিবাসীদের উচ্ছেদের হুমকি

আইপিনিউজ বিডি, ১৬ জুলাই, ডেক্স রিপোর্টঃ হবিগঞ্জ চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)-এর সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিনব্যাপি উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহণ করে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা। ফলে সেখানকার স্থানীয় দুই ত্রিপুরা দোকান সহ আরও ৪/৫ টি বাঙ্গালী দোকানে ভাংচুর ও উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দুই ত্রিপুরা হলো চিত্ত রঞ্জন দেববর্মা (স্থানীয় হেডম্যান) এবং তার ভাই।
জানা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সিএমসি সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে মাসোহারা বা চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাছাড়া সিএমসি সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল ও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে মাসোহারা বা চাঁদা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা আরও বলেন, ভাংচুরের আগে কোনো ধরনের নোটিশও দেওয়া হয়নি। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে ঘটনার পর থেকে ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিও থেকে দেখা সিএমসির সভাপতি আবুল হোসেন দোকানের মালিককে গালাগালি ও হুমকি ধামকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেই একদল যুবক নিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।
স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীরা প্রতিবাদ করে বলেন, আমরা এখানে যুগ যুগ বসবাস করে আসছি। আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই ভুমিতে জুম চাষ করে আসছে। আমরা এই ভূমির মালিক, এই ভুমিতে আমাদেরই অধিকার রয়েছে। জীবন দিয়ে হলেও আমাদের ভূমি রক্ষা করবো। ত্রিপুরা ও বাঙ্গালী ব্যাবসায়িদের তীব্র প্রতিবাদে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা সোমা দেব, চিত্র রঞ্জন দেববর্মাসহ স্থানীয় অনেকেই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


