আন্তর্জাতিক

EMRIP-এর ১৯তম অধিবেশনে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং ফলো-আপ সুপারিশ বিষয়ে বক্তব্য দেন পিসিজেএসএস এর প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা।

আইপিনিউজ বিডি, ১৭ জুলাই, আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS )-এর প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা জাতিসংঘের আদিবাসী জনগণের অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়া (EMRIP )-এর ১৯তম অধিবেশনে ‘এজেন্ডা আইটেম ১১: পূর্ববর্তী গবেষণায় প্রদত্ত সুপারিশসমূহের ফলো-আপসহ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরামর্শ’ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের পালাইস দে নেশন (Palais des Nations)-এ অনুষ্ঠিত EMRIP -এর ১৯তম অধিবেশনে তিনি এ বক্তব্য দেন।
EMRIP -এর ১৯তম অধিবেশন ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে শুরু হয় এবং ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে শেষ হবে।

অগাস্টিনা চাকমা বলেন, “ঊনত্রিশ বছর আগে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তিতে সামরিকীকরণ প্রত্যাহার, স্বশাসন এবং ভূমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ঊনত্রিশ বছর পরও তারা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বছর এই অপেক্ষার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সেনা প্রত্যাহারের পরিবর্তে সরকার নতুন করে ৩৪টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এখনো চার শতাধিক অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চল নিজস্ব আঞ্চলিক পরিষদ বা স্থানীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে না, বরং ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামের একটি সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে—যার ‘উন্নয়ন’ নীতির ফলাফল হয়েছে কেবল দখলদারিত্ব। যেখানে চুক্তি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখানেই ভূমি দখল, হামলা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই মেকানিজমের (EMRIP) এখন আর কী ভুল হচ্ছে তার আরেকটি বর্ণনা প্রয়োজন নেই। বরং ইতোমধ্যে যা জানা আছে, তার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত: চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আহ্বান ১৯৯৯ সাল থেকে উত্থাপিত হয়ে আসছে এবং ২০২২ সালে EMRIP তা পুনরায় সমর্থন করেছে। যে কোনো ধরনের কাঠামোই হোক না কেন, জুম্ম জনগণের মতো সম্প্রদায়ের কাছে তা কার্যকরভাবে পৌঁছায়নি। আমি নতুন কোনো কাঠামোর দাবি করছি না। আমি বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার কাছে অনুরোধ করছি, তারা যে ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটিকে দৃশ্যমান ও কার্যকর করুক—যার সূচনা হোক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ বর্তমানে তার ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (ইউপিআর) চক্রের মধ্যবর্তী পর্যায়ে রয়েছে এবং একটি মধ্যবর্তী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমি এই কাউন্সিলের কাছে আহ্বান জানাই, বাংলাদেশকে সরকারকে যেন চাপ দেওয়া হয় যাতে তারা ওই প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন—বিশেষ করে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার, ভূমি কমিশন এবং আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে।

আগামী বছর শান্তিচুক্তির ৩০ বছর পূর্ণ হবে। ত্রিশ বছর কোনো বিলম্ব নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত। জুম্ম জনগণ কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেনি শুধু নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য। তারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য।”

Back to top button