আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

থাইল্যান্ডের চিয়াংমায় প্রভিন্সে অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৩। এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (এআইপিপি) নামক একটি এশীয় সংগঠনের সাথে থাইল্যান্ডের দু’টি জাতীয় সংগঠন ইমপ্যাক্ট ও টংক্লা এর যে্ৗথ উদ্যোগে চিয়াংমায় এর সানসাই জেলার এআইপিপি অফিস প্রাঙ্গনে ২১শে ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হয়।

অর্ধদিবস এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এআইপিপি-এর সেক্রেটারী জেনারেল গ্যাম এ. শিমরায়। এআইপিপি-এর রিজিওনাল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং (আরসিবি) প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর চারু বিকাশ ত্রিপুরা তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও মাতৃভাষা রক্ষায় বাংলাদেশীদের অবদানের কথা তোলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাতৃভাষা একটি শক্তি। মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে একটি জাতির অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়ে। পৃথিবীতে আদিবাসীদের মাতৃভাষা সবচেয়ে হুমকি ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আদিবাসী ভাষায় শিক্ষা প্রচলনের পাশাপাশি আদিবাসী ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশে আরো বেশি কাজ করা উচিত।

অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নিজ ভাষায় কবিতা পাঠ, গান ও আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশিত হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি যৌথভাবে গেয়ে শোনান চিয়াংমায়ে বসবাসরত বাংলাদেশী আদিবাসীরা।

সোহেল হাজং ও ইয়ানী আর্কনিয়ার্ন এর উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল ও ভারতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কারেন, লীসু, লাহু, মং, আও, থারু, হাজং, চীন ও বাংলা ভাষায় কবিতা ও গান পরিবেশিত হয়।

এআইপিপি-এর মানবাধিকার বিষয়ক প্রোগ্রাম অফিসার সোহেল হাজং আইপিনিউজকে বলেন, ‘থাইল্যান্ডের মতো দেশে থেকে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছি এবং ‘আমারা ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানে সুর মেলাচ্ছি যার অনুভূতি অন্যরকম। মনে হয় বিদেশে থেকেও এদিনে নিজের দেশে আছি। আমার দেশের ২১ শে ফেব্রুয়ারির মতো মাতৃভাষা রক্ষার ঘটনাটি এখন সারাবিশ্ব জানছে, শ্রদ্ধা করছে দেখে অনেক ভালো লাগছে। এভাবেই যেন আমরা প্রত্যেক মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং আদিবাসী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি তাহলেই দিবসটি পালনে আরো সার্থকতা মিলবে।’

Back to top button