শিক্ষক হত্যা ও নির্যাতনের বিচারের দাবিতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের মানববন্ধন

বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব বাংলা একাডেমির পুরস্কার প্রাপ্ত অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলা, সাভারে কলেজ শিক্ষক উৎপল কুমারকে পিটিয়ে হত্যা, নড়াইলে কলেজ শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতির স্বদেশ গড়ে তোলার দাবিতে আজ বেলা ৪ টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের উদ্দোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা ড. সেলু বাসিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য (ভার্চুয়াল), সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গীবাদ বিরোধী মঞ্চের সদস্য সচিব শিক্ষক নেতা ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চেধুরী, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অলোক দাস গুপ্ত, মামুনুর রশীদ, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল আমীন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ঢাকা মহানগর নেতা জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, জুবায়ের আলম, নারী নেত্রী খালেদা ইয়াসমিন কনা, সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্পে নিস্পেষিত কারানির্যাতিত শিক্ষক হৃদয় মন্ডল প্রমুখ।
সভায় ঘোষণা পাঠ করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট পারভেজ হাসেম।
সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ।
সভায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ৫২ বছর পার করেও চেতনার ৭১’র দেশকে না ফেরাতে পারার ব্যর্থতা নিয়ে আমাদের চলে যেতে হবে। এখানে ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকার হাতিয়ার সাম্প্রদায়িক শক্তি, মাফিয়া, লুটেরা শ্রেণী, এই অপশক্তির ইন্ধন দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, যার জন্য আজকে দেশ বিপদগ্রস্ত, প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধকে হত্যা করা হয়। শুধু নড়াইল বা আশুলিয়ার ঘটনা দিয়ে শেষ নয়, ইতোপূর্বে ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনা ঘটে আসছে দেশে। কিন্তু প্রশাসনের সামনে এমন জঘন্য ঘটনা প্রমাণ করে রাষ্ট্র আজ কতটা অসহায়। এই দৈন্যতা আর সাম্প্রদায়িকতার সাথে আঁতাত করে মুক্তিযুদ্ধ বাঁচানো যাবে না। এক্ষুনি সাম্প্রদায়িক-উগ্রবাদীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস ও প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এখনই অপশক্তি সাম্প্রদায়িকতাবাদীরা সবকিছু দখল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নড়াইলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে থলের বেড়াল বের হয়ে আসবে।
ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাতিকে বাঁচাতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সাম্প্রদায়িক-উগ্রবাদীদের চিহ্নিত করতে হবে। এদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
সালেহ আহমেদ বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমরা বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে আবার ৪৭ এর ধারায় নেমে যাচ্ছি। এখানে নাটক, গান, জারি-সারি, ভাটিয়ারীসহ আবহমান বাংলার যে সংস্কৃতি তা অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশে কোথাও পহেলা বৈশাখ, গান-নাটক করতে হলে সময় বেঁধে দেওয়া হয় এই সংস্কৃতি থেকে রাষ্ট্রকে বের হয়ে আসতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক-উগ্রবাদীদের অপপ্রচার কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।


