করোনাকালীন মানবাধিকার পদক পেলো ‘বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যোর ভালোবাসা’

করোনাকালীন মানবাধিকার পদক-২০২০ পেলো ‘বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যের ভালোবাসা।’ বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই পদক প্রদান করে। করোনা মহামারীর সময়ে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য দশটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে এই পদক প্রদান করেছে সংস্থাটি।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় এই পদক প্রদান করা হয়। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহ পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট সি ডিকসন, সুইজার ল্যান্ড অ্যাম্বাসির প্রতিনিধি হ্যাঙ্কজ পিকনানী, বাংলাদেশে কর্মরত কানাডিয়ান হাই কমিশনের প্রতিনিধি পেড্রা মুন মরিস, সুইডেন অ্যাম্বাসির প্রতিনিধি ক্রিসটাইন জনসন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিডি ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং পাহাড়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান।
করোনাকালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা এবং মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য এবছর এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রতিবছর মানবাধিকার দিবস (১০ ডিসেম্বর) উপলক্ষ্যে সংগঠনটি এই পদক দিয়ে থাকে।
পদক প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যের ভালোবাসা প্লাটফর্মের অন্যতম উদ্যোক্তা ও কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা বলেন, আমরা এতে উৎসাহিত হয়ে আগামী দিনে আবারো আদিবাসীদের সংকটে পাশে থাকবো এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো।
এই প্লাটফর্মের অন্যতম উদ্যোক্তা আদিবাসী অধিকার কর্মী চন্দ্রা ত্রিপুরা বলেন, পদক প্রাপ্তির জন্য তো এই উদ্যোগ নিইনি। তারপরেও এই পদক আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দিবে আগামীতে।আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সকল সংকটে পাশে থাকার কথাও বলেন তিনি।
উক্ত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যে ভালোবাসা প্লাটফর্মের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সতেজ চাকমা। তিনি জানান, পদকের আর্থিক মূল্য (১০০০০/- টাকা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার এবং ঢাকাস্থ জুম্ম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্যোগে চলমান শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে প্রদান করা হবে। পাহাড়ের শীতার্ত আদিবাসীদের জন্য এটি ব্যয় করার লক্ষ্যে প্লাটফর্মের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য করোনা শুরুর প্রথমদিকে যখন লকডাউন শুরু হয় তখন পাহাড়ের প্রান্তিক আদিবাসীরা খাদ্য সংকটে পড়ে। অর্থ উপার্জনের খাত সমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হয়।এমতাবস্থায় আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এমন কয়েকজন ব্যক্তি এবং পাহাড় থেকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে এমন কয়েকজন উদ্যমী তরুণের উদ্যোগে শুরু হয় ‘বনফুলের জন্য জুম্ম তারুণ্যের ভালোবাসা’র মানবিক কার্যক্রম। এবছররে এপ্রিলের শেষ দিক থেকে তাঁরা এই উদ্যোগটির মাধ্যমে ৫০০ এর অধিক আদিবাসী পরিবারকে খাদ্য ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।


