জাতীয়

পাহাড়ে হাম উপদ্রুত এলাকায় জরুরী মানবিক সহায়তার আহ্বান

পাহাড়ে হাম উপদ্রুত এলাকায় জরুরী মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’ ও ‘কাপেং ফাউন্ডেশন’ আজ গণমাধ্যমে একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছে। বিবৃতিতে দেশে করোনা (Covid 19) পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সময়ে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়ন এবং বান্দরবন জেলার লামা উপজেলার লামা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উক্ত দুটি সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। করোনার ডামাঢোলে পার্বত্য অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব কর্তৃপক্ষের চোখের আড়ালে যেন না থাকে তা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনজর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের আহ্বান উক্ত বিবৃতিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, মাস খানেক পূর্বে শুরু হওয়া উক্ত প্রাদুর্ভাবে কমপক্ষে ৩০০ জন শিশু আক্রান্ত হয় ও ৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। এমতাবস্থায় সেখানকার অধিবাসীরা যথেষ্ট উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন যাপন করছে ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ প্রাদুর্ভাবে সাজেকে মোট ৬টি গ্রামের প্রায় ২৫০ জন হামে আক্রান্ত হয় এবং তাদের অধিকাংশই শিশু। তুইছুই মৌজার অরুণপাড়া সবচাইতে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ২০ দিনের ব্যবধানে ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত অন্যান্য গ্রামগুলো হচ্ছে- লংথিয়ান পাড়া, কমলাপুর চাকমা পাড়া, নিউথাং/নতুনপাড়া, হাইচ্যাপাড়া ইত্যাদি। কমপক্ষে ১০০ জন শিশু এবং ৭-৮ বছরের বয়সিরা বেশি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। গ্রামগুলোতে শিশুদের এযাবত কোন টিকাই প্রদান করা হয়নি। সরকারের কোন স্বাস্থ্য সেবাও সেখানে পৌঁছায় নি। কোন স্বাস্থ্যকর্মী তাদের এলাকায় পা দেয়নি। অন্যদিকে, ম্রো অধ্যুষিত লাল্যাপাড়ায় ৪ মাসের এক ম্রো শিশু মারা গেছে এবং ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে যাদের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ জন শিশু। গত ১৬ মার্চ তাদের মধ্যে ৩১ জন শিশু ও ২ জন প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীকে ট্রাকে করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা এটিকে অজ্ঞাত রোগ হিসেবে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয় যে, সাজেকে উপদ্রুত এলাকায় চিকিৎসা সেবা চলছে। হামের টিকা ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। মুমুর্ষু কোন কোন রোগীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতায় হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে। করোনার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে হামের এ প্রাদুর্ভাবের প্রতি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে বিবৃতিতে নিম্নোক্ত আহ্বান জানানো হয়-

১। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক, নিরবিচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
২। পাহাড়ে হাম উপদ্রুত এলাকায় জরুরী মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
৩। আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে সুচিকিৎসা ব্যবস্থা করা।
৪। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।

Back to top button