আঞ্চলিক সংবাদ

বান্দরবানে লামায় ত্রিপুরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

আইপিনিউজ বিডি, ২২ জুন, বান্দরবানঃ বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে আদিবাসী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর বাঙালি ভূমিদস্যুদের সশস্ত্র হামলা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল রবিবার (২১ জুন) বিকেলে ও সন্ধ্যায় দুই দফায় উপজেলার ফাইতং ও গজালিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় উক্ত ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন: ১) শিমন ত্রিপুরা (৩৭), পিতাঃ মৃত সূর্য মনি ত্রিপুরা ; ২) গাব্রিয়েল ত্রিপুরা (১৭), পিতা: মৃত বিসম্ব ত্রিপুরা ; ৩) নিউটন ত্রিপুরা (৩৮), পিতা: মৃত তাওরুংহা ত্রিপুরা

তাদের সকলের বাড়ি বান্দরবান জেলাধীন লামা উপজেলার ১ নং গজালিয়া ইউনিয়ন, ৬ নং ওয়ার্ডের নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় বলে জানা যায়। উক্ত আগতদের পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে শিমন ত্রিপুরার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা মৃত সূর্য মনি ত্রিপুরার তিন ছেলে শিমন ত্রিপুরা, সইততি ত্রিপুরা ও গুদাইচন্দ্র ত্রিপুরা দীর্ঘ ২০-২২ বছর ধরে নিজেদের বৈধ মালিকানাধীন জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছেন।

কিন্তু সম্প্রতি ফাইতং ইউনিয়নের চিয়ারতলী ঠানডাবিরি এলাকার বাসিন্দা মোঃ বজলুর রহমান (৮০), পিতা- মৃত মুজাফ্ফর হাওলাদার উক্ত জমির ওপর অবৈধ ও ভিত্তিহীন দাবি উত্থাপন করেন।

এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং দুই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে বাদীপক্ষের (ত্রিপুরাদের) মালিকানা ও দখলের কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলেও বিবাদী বজলুর রহমানের দাখিলকৃত কাগজপত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি ও সীমানাগত অমিল ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বজলুর রহমান ১৯৮৩ সালের একটি বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি মামলার ২৫ বছরের পলাতক আসামি।

গতকাল রবিবার সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিবাদী বজলুর রহমান জোরপূর্বক ত্রিপুরাদের ভোগদখলীয় জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে জমির মালিকরা এই অবৈধ নির্মাণকাজে বাধা দিলে বজলুর রহমান ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা লাঠিসোটা, দা, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আদিবাসী ত্রিপুরাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। শুরুতে প্রথম দফায় হামলা চালায় বিকেল ৫:৩০ ঘটিকায় এবং দ্বিতীয় দফায় আবারো হামলা চালায় রাত ৭ ঘটিকার সময়ে।

হামলায় শিমন ত্রিপুরাসহ তিন ভাইয়ের মাথা, কাঁধ, পিঠ, হাত ও পায়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত করে জখম করা হয়।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বিবাদী বজলুর রহমান ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল নিয়ে পুনরায় নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় চড়াও হয়। তারা ত্রিপুরাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায় এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গ্রামবাসী বাধা দিতে এলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আহত করা হয়।

সশস্ত্র হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের ঘরবাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে জোরপূর্বক তল্লাশি চালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এলাকা ত্যাগ করার আগে তারা প্রকাশ্যে গ্রামবাসীর সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে বলেও জানা গেছে।

এই ঘটনার পর থেকে দুর্গম ওই পাহাড়ি বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই জঘন্য হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসী বজলুর রহমান ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Back to top button