পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণ ও দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় মানববন্ধন

আইপিনিউজ বিডি, ২১ জুন, ২০২৬ঃ আজ (২১ জুন, ২০২৬) রবিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্ক ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সদ্য পদত্যাগী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি) কে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল এবং প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়নের দাবিতে রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সহ-সভাপতি স্বপ্ন মুল্লিক, বিশিষ্ট নারী নেত্রী নুর জাহান বেগম পারুল, বরকল কার্বারি সমিতির সভাপতি নন্দ বিকাশ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্ক প্রতিনিধি মানুসিং মারমা, রাঙ্গামাটি হেডম্যান এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হেডম্যান সুজিত দেওয়ান। এছাড়াও সংহতি জানিয়েছেন ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন স্তরের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
এই মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন লংগদু উপজেলার ৩৯০ নং কালাপাগজ্জ্যায় মৌজা হেডম্যান মীর সিরাজউল ইসলাম চৌধুরী।
এই ছাড়া বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্যবাসীর ভোটে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নির্বাচিত হননি। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাও নন। ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন প্রতিনিধি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও, সেই বিধান উপেক্ষা করে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার মীর হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। বক্তাদের মতে, এটি চুক্তির মূল চেতনার পরিপন্থী এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।
তারা আরও বলেন, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে পাহাড়ের মানুষ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু জনগণের সেই প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে বহিরাগত হিসেবে পরিচিত একজনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা তারা গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অসুস্থতার অজুহাতে সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, দীপেন দেওয়ান একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজসেবক হিসেবে পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সর্বশেষ তারা দাবি করেন, পার্বত্য চুক্তি ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল করা উচিত। একই সঙ্গে তারা বলেন, এই দাবিগুলো উপেক্ষা করা হলে পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্ক ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাঙামাটি-২৯৯ সংসদীয় আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য পদত্যাগী পূর্ণমন্ত্রী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি) মহোদয় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রচারিত তথ্যে আমরা জানতে পেরেছি যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, বরং বিভিন্ন পরিস্থিতির চাপে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ গভীরভাবে হতাশ ও মর্মাহত হয়েছে। কারণ, একজন যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জনআস্থাসম্পন্ন নেতা হিসেবে জনগণ তাঁকে বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, অধিকার রক্ষা এবং পাহাড়ের জনগণের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।
এইসময় স্মারকলিপিতে নিম্নোক্ত ২টি দাবি উল্লেখ করা হয়-
১। এডভোকেট দীপেন দেওয়ান (এমপি) মহোদয়ের পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁকে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
২। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বার্থে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মহোদয়কে অন্যত্র দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।


