জাতীয়শিক্ষা

সিরাজগঞ্জে আদিবাসী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে বিএনপি’র বাধা প্রদান

আইপিনিউজ বিডি, ৩১ মে, ঢাকাঃ গত শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০ ঘটিকায় সিরাজগঞ্জ জেলায় বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, তাড়াশ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন (মিসাব) ১৭তম আদিবাসী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় বিএনপি’র পক্ষ থেকে বাধাদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এই বাধা প্রদানের কারণে মিসাব সংগঠেনের পক্ষ থেকে উক্ত অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

এই সময় উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, মাহাতো সমাজপতি এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. গজেন্দ্র নাথ মাহাতোর। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হককে। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি, বিশেষ অতিথি, মাহাতো সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অন্যান্য বক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

সেই অনুযায়ী আমন্ত্রণপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে মাহাতো সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে এবং পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। অতিথিদের মধ্যে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে থাকে বলে মিসাব সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন (মিসাব) ২০০৬ সালে হতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবে আদিবাসী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ প্রদান করা এবং তাদের শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়া রোধে ভূমিকা রাখা।

এরই ধারাবাহিকতায় মিসাব ১৭তম আদিবাসী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মিসাবের অধিকাংশ অনুষ্ঠান মাহাতো আদিবাসীদের ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত এবং মাহাতো সম্প্রদায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

যেহেতু ৫ আগস্টের পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালে উক্ত প্রতিষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্ভব হয়নি সেহেতু পরবর্তীতে দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও পুরোনো ভেন্যুতে ১৭তম আদিবাসী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন।

পরবর্তীতে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথমে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় অনুমতি না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইউএনও কার্যালয়ে প্রথমবার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে পুনরায় আবেদন করলে ইউএনও কার্যালয় থেকে শুধুমাত্র মাঠ ব্যবহারের লিখিত অনুমতি প্রদান করা হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাড়াশ উপজেলা বিএনপি’র নেতা সুশীল মাহাতো আমন্ত্রণপত্রে তার নাম না থাকায় বিভিন্নভাবে অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি এককভাবে সফল না হওয়ায় বিএনপি’র ঊর্ধ্বতন নেতাদের সহযোগিতা নেন।

পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সেলিম জাহাঙ্গীরের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে গেলে মিসাব কর্মীদের সামনেই তিনি আমন্ত্রণপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। একইসঙ্গে সংগঠনের তিনজন সদস্যকে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং তাদের কাছে থাকা আমন্ত্রণপত্রগুলো নিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হকের ফোনের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপরও সংগঠনের সদস্যদের বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই সময় দেশিগ্রাম ওয়ার্ডের বিএনপির একাধিক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন বলে জানা যায়। যাদের মধ্যে সুশীল মাহাতোও ছিলেন।

পরে ক্রমাগত চাপ, প্রতিবন্ধকতা এবং অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন (মিসাব) কর্তৃক আয়োজিত ১৭তম আদিবাসী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।

Back to top button