জাতীয়

জনগণের প্রতি সরকার ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কোথায়ঃ সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন

আইপিনিউজ ডেক্স (ঢাকা): সিন্ডিকেটের আগ্রাসনের সাথে ব্যর্থতার দায় জনগণের উপর চাপানো হয়েছে। আমদানির পরও কাঁচা মারিচ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এখনো চারশত, পাঁচশত টাকার অধিক মূল্যে স্থান বিশেষে কাঁচা মরিচ বিক্রয় হচ্ছে। সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে যে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, তাতে শুধু মন্ত্রী বা সরকারের নয় দেশেরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। জনগণের প্রতি সরকার ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কোথায় এই প্রশ্ন দেশবাসীর সাথে আমাদেরও। দীর্ঘ সময় থেকে দেশে নানা অজুহাতে একেক সময় তেল, পেঁয়াজ, চাল-ডাল, ডিমসহ নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে সর্বশান্ত করার রাজনীতির যে সংস্কৃতি চলেছে এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থাহীনতা ও দেশে লুটপাটের সংস্কৃতি বেড়ে চলেছে। আমরা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সরকারের সদিচ্ছা কামনা করছি।

গতকাল ৮ জুলাই ২০২৩ বিকাল ৫টায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আগামী ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিব্য সভা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

ঢাকার শাহবাগের বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরিন কণা, বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ, এ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, জহিরুল ইসলাম জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রেজাউল কবির, সামসুল আলম জুলফিকার, বিপ্লব চাকমা, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল ওয়াহেদ, নুরুল আমিন, হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, অনর্ব দেবনাথ, আমান উল্লাহ আমান, কাজী তামজিম পাশা, হুমায়ুন কবির রেজা, চন্দন লাহাড়ী প্রমুখ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ যে কোন সময়ের তুলনায় ক্রান্তিকাল পার করছে। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে ক্ষমতার পালাবদলে সম্প্রসারণবাদ, আদিপত্যপাদ, ধর্মান্ধতা, মাফিয়াচক্র ও দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িকতাবাদকে ক্ষমতা বদলের সুযোগ প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজকে সমাজের সর্বক্ষেত্রে লুটেরা, দুর্নিতিবাজ ও সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। এখন দেশী-বিদেশী সংস্থা ও ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে শুধুমাত্র গণতন্ত্রের ছবক দিয়ে ধর্মান্ধ ও মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে নিয়ে যাবার হীন চেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে এই দেশ ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। এই সমতল ভূমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উপর যে কোন ধরনের চক্রান্তের সাথে এই মাফিয়া সিন্ডিকেট সব সময় জড়িত। এরা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা বিশ্বাস করে না। এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেশের বিবেকবান মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

Back to top button