আঞ্চলিক সংবাদ

সীমান্ত সড়ক নির্মাণঃ সাজেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): সাজেক সীমান্ত সড়ক নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জুম্মদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সাজেক এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী। এছাড়া সীমান্ত সড়কের পার্শ্ববর্তী নিজস্ব জায়গা-জমিতে জুম্মদেরকে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও চলাচলে বাধা প্রদানের প্রতিবাদও জানান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

গত ৩১ মার্চ ২০২৩ দুপুরে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উদয়পুর এলাকায় সাজেকের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর ব্যানারে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিব্রকান্তি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলোময় চাকমা, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মোহন লাল চাকমা, স্থানীয় গ্রামের কার্বারি বুদ্ধি রঞ্জন চাকমা, ললিত কার্বারি, উদয় রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে প্রেরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়ঃ
“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি কর্তৃক তিন পার্বত্য জেলার অন্যান্য এলাকার ন্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৬৮নং কংলাক মৌজা ও ১৬৭নং রুইলুই মৌজার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের উদয়পুর জংশন থেকে উত্তরে ১০ কিলোমিটার ও দক্ষিণে ১০ কিলোমিটার সাজেক আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হতে চলেছে। অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও পরিতাপের বিষয় যে, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় নেতৃত্ব ও অধিবাসীদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ও পূর্ব সম্মতি ব্যতিরেকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর কোনরূপ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করেই সরকার ও সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি এই সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্মারকলিপিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়ঃ
১. অবিলম্বে সাজেক সীমান্ত সড়ক নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জুম্ম পরিবারসমূহের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২. সাজেক সীমান্ত সড়কের পার্শ্ববর্তী জুম্মদের নিজস্ব জায়গা-জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণে বাধা প্রদান অবিলম্বে বন্ধ করা।
৩. অবিলম্বে ভূমি কমিশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৪. অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্টমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকের বরাবরেও স্মারকলিপির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, উক্ত সড়ক নির্মাণের ফলে বিগত ২০২১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অন্তত ২১০ জুম্ম পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে কয়েক শত জুম্ম পরিবার। বিশেষ করে, সড়ক নির্মাণ করার সময় জুম্মদের ঘরবাড়ি, দোকান এবং সেগুন, আগর, বাঁশ ইত্যাদি মূল্যবান বনজ ও বিভিন্ন ফলজ গাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে। শুধু তাই নয়, এতে বহু জুম্ম পরিবারের জুমভূমি এবং অনেক পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। ২০২১ সালে আগষ্টে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বরাবর স্মারকলিপিও প্রেরণ করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো । তারপরও এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এছাড়া সীমান্ত সড়কের আশে-পাশে নিজস্ব জমিতে ঘর-বাড়ি ও দোকান ঘর নির্মাণেও বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন।

Back to top button