জাতীয়

কর্তৃত্ববাদী শাসন হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেই জাফরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবেঃ স্মরণসভায় সিপিবি নেতৃবৃন্দ

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গণমানুষের নেতা সৈয়দ আবু জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গণমানুষের মুক্তির জন্য সৈয়দ আবু জাফর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি আমৃত্যু অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ছিলেন। কর্তৃত্ববাদী শাসন হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কমরেড জাফরের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।

আজ ২৯ মে ২০২৩, বিকেলে কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, লক্ষী চক্রবর্তী। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আদর্শহীনতার বিপরীতে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমদ ছিলেন সততা, আদর্শনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে, স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তেল-গ্যাসসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিপীড়িত ক্ষেতমজুর, চা-শ্রমিক ও ‘শব্দকর’ জনগোষ্ঠীর মুক্তির লড়াইয়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিলোপবাদীদের পার্টি ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের সংকট মোচনে দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তিবলয় গড়ে তোলার কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সৈয়দ আবু জাফরের বিপ্লবী জীবন থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

সিপিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাম্রাজ্যবাদ নানাভাবে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। দেশ ও মানুষ বাঁচাতে দুঃশাসন হটাতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য গণআন্দোলন জোরদার করতে হবে। জনগণের লড়াইয়ের কাছে কর্তৃত্ববাদী সরকারকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে।

Back to top button