আঞ্চলিক সংবাদ

লামায় এবার রাবার কোম্পানির বিরুদ্ধে ৩০০ কলা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ 

সুমেধ চাকমা:  বান্দরবানের লামা উপজেলায় এবার রাবার কোম্পানির বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসীদের কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।  গত শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের রেং ইয়েন ম্রো কার্বারি পাড়ার বাসিন্দা রেং ইয়ুং ম্রোর রোপণ করা প্রায় ৩০০ টি কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লামা রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ কোম্পানিকে দায়ী করেছেন ভুক্তভুগী রেং ইয়ুং ম্রো। তিনি জানান, ২০২১ সালে একই জমিতে আম গাছ, তেঁতুল গাছ ছিল কিন্তু সেই গাছগুলোও রাবার কোম্পানির লোকজন জঙ্গল পরিষ্কারের নামে কেটে ফেলেছিল।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভুগী রেং ইয়ুং ম্রো আইপিনিউজকে বলেন, “রাবার কোম্পানির লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার বাগানের কলাগাছগুলো কেটে দিয়েছে। গতকাল রাবার কোম্পানির ৪০-৫০ জন লোক সকাল আটটার দিকে আমার বাগানের পাশে কাজ  করতে আসে। তারা বিকাল ৪ টা পর্যন্ত কাজ করেছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে জঙ্গল পরিষ্কারের নামে বাগানের গাছগুলো কাটা হয়েছে। কলা গাছগুলো কাটার সময় কয়েকজন পাড়াবাসী তা দেখেছে। কিন্তু কোম্পানির লোকজন বেশী থাকায় তারা কিছু বলার সাহস পায়নি।”

সহায় সম্বলহীন রেং ইয়ুং ম্রো জানান, “আমার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। জমিতে গাছ লাগানোর সামর্থ্যও আমার ছিল না। পাড়ার লোকজন আমাকে কলা গাছের চারাগুলো দিয়ে সাহায্য করেছিল। তাদের সহায়তায় এপ্রিল মাসের শুরুতে চারাগুলো লাগিয়েছিলাম। রাবার কোম্পানির লোকজন গাছগুলো কেটে দেয়ায় এখন পরিবার নিয়ে কিভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পাড়ার কার্বারী রেং ইয়েন ম্রো বলেন, “কাল দুপুরের দিকে রেং ইয়ুং ম্রোর কলা চারাগুলো কাটা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এর আগেও ২০২১ সালে একই জায়গায় লাগানো বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা রাবার কোম্পানির লোকজন কেটে দিয়েছিল। অনেক দিন ধরেই কোম্পানির লোকজন রেং ইয়ুং ম্রোর জায়গায় রাবার গাছ লাগানোর চেষ্টা করছে। সম্ভবত এবারও রাবার গাছ লাগানোর উদ্দেশ্যে গাছগুলো কাটা হয়েছে।”

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কার্বারী রেং ইয়েন ম্রো জানান, “চেয়ারম্যান এবং পুলিশকে আমরা ঘটনাটি জানাইনি কারণ তারাও রাবার কোম্পানির পক্ষ নিয়েছে। তাই তারা কোন ধরনের ব্যবস্থা নিবে না। আগের ঘটনাগুলোর কোন বিচার আমরা পাইনি। বান্দরবানের এমপিও এই জায়গার সমস্যা সমাধানের জন্য একবার এসেছিলেন কিন্তু তিনিও কোন ধরনের সমাধান দিতে পারেননি। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।”

এদিকে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামের সাথে ফোন যোগাযোগ করা হলেও  তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, বান্দরবানের লামায় রেং ইয়েন পাড়ার একমাত্র পানির উৎসে ৬ সেপ্টেম্বর  বিষ প্রয়োগ করে লামা রাবার কোম্পানি’র শ্রমিকরা। এদিকে গত ২৪ এপ্রিল ইজারা নেয়া হয়েছে এমন দাবিতে ডলুছড়ি মৌজার ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০০ একর জুম ভূমির ফসল ও গাছপালা পুড়িয়ে দেয় লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি।

Back to top button