জাতীয়

পঞ্চগড়ে আক্রান্ত আহমদিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে ৩০ বিশিষ্টজনের বিবৃতি

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): রাষ্ট্র ও রাজনীতির ধর্মাশ্রয়ী নীতি সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের জন্য দায়ী বলে মনে করেছেন দেশের ৩০ বিশিষ্টজন। পঞ্চগড়ের আহমদ নগরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বার্ষিক সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পরের দিন আবারও পূর্ব ঘোষণা দিয়ে বসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই বিশিষ্টজনরা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পঞ্চগড়ের এই আক্রমণের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও এমনইভাবে আহমদিয়া সম্প্রদায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক নীতি এবং ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য না করা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।’

আজ ৪ মার্চ ২০২৩ গণমাধ্যমে পাঠানো উক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল,  পঙ্কজ ভট্টাচার্য,
রাশেদা কে. চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, ডা. সারওয়ার আলী,  অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন,  অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার,  এস.এম.এ সবুর, সভাপতি, খুশী কবির, অ্যাডভোকেট তবারক হোসাইন, এম. এম. আকাশ, রোবায়েত ফেরদৌস, রনজিৎ কুমার সাহা, শামসুল হুদা, সালেহ আহমেদ, মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, পারভেজ হাসেম, ড. জোবায়দা নাসরিন, ড. সেলু বাসিত,  আব্দুর রাজ্জাক,  অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, এ কে আজাদ, জহিরুল ইসলাম জহির, জাহাঙ্গীর আলম সবুজ,  অলক দাস গুপ্ত, দীপায়ন খীসা,  সেলিম রেজা,  গৌতম শীল প্রমুখ।

শুধু আহমদিয়া সম্প্রদায়ই নয় দেশের বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় বা ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি-জনগোষ্ঠী একইভাবে উগ্র ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হয়ে আসছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের আক্রমণ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। কিন্তু রাষ্ট্র এই আক্রমণ বন্ধ কিংবা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বরাবরই নিষক্রিয় থাকছে। রাষ্ট্রের এই নিষক্রিয়তা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিসহ বাংলাদেশকে ক্রমশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীর জন্য ভীতিকর রাষ্ট্রে পরিণত করছে, যা জনযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতিকে কলঙ্কিত করছে।

একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রের অধিক গুরুত্ব প্রদান এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থার অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসনেও নিষক্রিয় থাকা দেশে ধর্ম ও জাতিগত নিপীড়ন প্রবণতার সৃষ্টির জন্য দায়ী উল্লেখ করে বিবৃতিদাতারা আরো বলেন,  রাষ্ট্র ও রাজনীতির ধর্মাশ্রয়ী নীতি প্রতিটি প্রতিটি সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের জন্য দায়ী। আহমদিয়া সম্প্রদায় কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীর উপর ইতোপূর্বে সংঘটিত নিপীড়নের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্বাধীনতার মাসে আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

এদিকে ঘটনা পরবর্তী সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন ও ঘটনাস্থলে কয়েক দিনের পুলিশী পাহাড়া বসিয়ে রাষ্ট্রীয় দায় শেষ করার বিপরীতে রাষ্ট্রকে কঠোর নীতি অনুসরণ করতে হবে বলেও দাবি করেন উক্ত বিশিষ্টজনরা। সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের জন্য মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র তথা সরকারকে ধর্মবোধের রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে কঠোরতার সাথে ধর্মীয় উগ্রতা ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে হবে।

এই বিবৃতির মাধ্যমে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং বিবৃতিদাতারা নিম্নোক্ত দাবি কবেন-
১. প্রতিটি সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ- এটিকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে;
২. প্রতিটি ঘটনায় সংসদীয় তদন্ত কমিশন এবং স্বাধীন গণতদন্ত কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়ন করতে হবে;
৩. সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের ঘটনার বিচারে সকল মামলা দ্রুত বিচার আইনে এবং সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে নিস্পত্তি করতে হবে এবংএ যাবতকালে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের বিচার করতে হবে; এবং
৪. পঞ্চগড়ের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার এবং সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত সম্পাদন ও বিবৃতি প্রকাশ করতে হবে।

 

 

Back to top button