আঞ্চলিক সংবাদ

চট্টগ্রামস্থ পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২২ অনুষ্ঠিত

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): গতকাল শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম  শহরের নিউ মার্কেটস্থ এশিয়ান হোটেলে পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম, চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা,পাহাড়তলী, চান্দগাঁও থানা শাখা ও টেকবাজার, নিউমুরিং, মাইলের মাথা ইউনিটসহ  আদিবাসী মহিলা ফোরাম,চট্টগ্রাম মহানগর শাখার বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
“ডাকছে ভূমি কাঁদছে মা, এসো হে তরুণ প্রাণ, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে হই বলিয়ান” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের আলোচনাপর্ব দুপুর ২ ঘটিকায় শুরু হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম,চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি জ্যোতি চাকমা ।এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ,চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, পিসিপি,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নরেশ চাকমাসহ পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম ও আদিবাসী মহিলা ফোরামের নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ী শ্রমিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অমর কৃষ্ণ চাকমা(বাবুরাম)।
শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জগৎ জ্যোতি চাকমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিশান তঞ্চঙ্গ্যা।এছাড়াও প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের বিভিন্ন থানা শাখা ও আদিবাসী মহিলা ফোরামের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্যোতি চাকমা বলেন, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন হতে হবে। জুম্মজাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস জানা দরকার। আমাদের ভূমি আজ আমাদের ডাকছে। মাতৃভূমি কাঁদছে, এই ডাকা আপনারা শুনছেন কিনা।
তিনি আরো বলেন, মানব সভ্যতা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের যুগে এসে পৌঁছেছে।এখানে যেমন মানুষের শ্রম ও ঐক্য ছিল একইভাবে জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে জোরদার করতে হবে।সামন্তীয় মনস্তত্ত্ব এখনো আমাদের সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যের পাহাড় গড়ে দিয়েছে। প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে আমাদের বিদ্যমান এই বৈষম্য দূর করতে হবে।
নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন,আমরা যদি পারস্পরিক বোঝাপড়া মধ্যে না থাকি তবে সাংগঠনিক কাজের সময় বাধাগ্রস্ত হবো।সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হলে প্রত্যেক কর্মীকে সংগঠনের নীতি-আদর্শ মেনে উদ্যোগী হয়ে কাজ করে যেতে হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত পাহাড়ী শ্রমিকদের একাংশ
পিসিপি মহানগর শাখার সভাপতি সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, একজন সত্যিকারের কর্মী হিসেবে ব্যক্তিগত কাজের চাইতে সংগঠনকে গুরুত্ব দিতে হবে। জুম্মজাতির অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের চিন্তা-চেতনা একই কাতারে আনতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নরেশ চাকমা বলেন, আজকের এই সম্মেলনে উপস্থিত সকলের মধ্যে একটা জিনিসে মিল রয়েছে, সেটা হলো আমরা সকলেই বিজাতীয় শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্খা করছি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়ছি।পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান অবস্থা নাজুক।শাসকগোষ্ঠী নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে।উন্নয়নের নামে ভূমি বেদখল, উচ্ছেদ, পর্যটন নির্মাণ চলছে।বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সেই জায়গায় আন্দোলন বিমুখ। যেখানে আপনার স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মতো নিশ্চয়তা নেই সেখানে দায়িত্ববোধহীনভাবে থাকা আমাদেরবকাম্য নয়। এই পরিস্থিতিতে একই চিন্তাধারার মানুষগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।এছাড়াও তিনি উপস্থিত সকলকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আপসহীন আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে দিশান তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জন্মলগ্ন থেকে নিপীড়িত জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে আপসহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নতুন কমিটির উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে নব গঠিত কমিটির সকল সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং সমগ্র জুম্ম জাতির কথা চিন্তা করে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব্রের সঙ্গে যার যার সাংগঠনিক এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার  আহ্বানও জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে, অমরকৃষ্ণ চাকমা বলেন, আমরা যে অঞ্চল থেকে এসেছি সেই অঞ্চলের কথা চিন্তা করে নিরলস কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মহান পার্টির (জনসংহতি সমিতি) আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
আলোচনাসভা শেষে পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম, চট্টগ্রাম বন্দর থানা, ইপিজেড থানা, পতেঙ্গা থানা ,পাহাড়তলী থানা, চান্দগাঁও থানা ও টেকবাজার, নিউমুরিং, মাইলের মাথা ইউনিটসহ  আদিবাসী মহিলা ফোরাম,চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নব গঠিত কমিটির নাম ঘোষণা এবং কমিটিসমূহকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। সবশেষে করতালির মাধ্যমে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে এবং জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রেখে এই বার্ষিক শাখা সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

Back to top button