জাতীয়

ঘণ্টায় ৫০ কেজি পাতা উত্তোলনকারী উপলক্ষী ত্রিপুরা পেলেন প্রথম ‘চা পুরস্কার’

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): ফটিকছড়ির উপলক্ষী ত্রিপুরা। ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে চা পাতা তুলছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন বাগানে; জন্ম-বেড়ে ওঠাও তার চা পাতার দুলনীতে। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার পেলেন শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারীর পুরস্কার। আজ রোববার মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে জাতীয় চা পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি’র হাত থেকে তিনি এ পুরষ্কার গ্রহন করেন।

জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী ক্যাটাগরিতে ২০২২ সালে ২৮ হাজার ৩ শত চুয়াল্লিশ কেজি চা পাতা চয়ন করে জাতীয় চা পুরস্কার গ্রহণ করলেন এই নারী চা শ্রমিক। তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলাধীন নেপচুন চা বাগানের একজন স্থায়ী শ্রমিক।

জানা যায়, তিন পুরুষের ধারাবাহিকতায় চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করা ৪৫ বছরের এ শ্রমিক ঘন্টায় চা পাতা উত্তোলন করতে পারেন প্রায় ৫০ কেজি।

এক বছরে তিনি উত্তোলন করেছেন ২৮ হাজার ৩৪৪ কেজি চা পাতা; যা তাকে এনে দিয়েছে ‘জাতীয় চা পুরস্কার’। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চা বোর্ডের এ পুরস্কার পেয়েছেন উপলক্ষী ত্রিপুরা। পুরস্কার হিসেবে চা বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এক ভরি ওজনের সোনার ক্রেস্ট ও সনদ।

আটটি ক্যাটাগরিতে দেওয়া পুরস্কারের মধ্যে একমাত্র চা শ্রমিক হিসেবে ‘শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী’র সম্মাননা পেলেন উপলক্ষী। চা শ্রমিক উপলক্ষী ত্রিপুরার জন্ম ১৯৭৮ সালে ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানে। এ বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন জানান, তিন পুরুষ ধরেই তার পরিবারের সদস্যরা চা বাগানের কাজে যুক্ত। সেও ছোটবেলা থেকে বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চা পাতা উত্তোলনের সঙ্গে তিনি যুক্ত।

উপলক্ষী দিনে এক ঘণ্টায় ৪৯ দশমিক ৯০ কেজি চা পাতা তুলতে পারেন জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, এবার শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী (উত্তোলনকারী) হিসেবে আমাদের বাগানের এই শ্রমিক চা বোর্ডের এই পুরস্কার পাচ্ছেন। এজন্য বাগানের সবাই গর্বিত।

এদিকে উপলক্ষী ত্রিপুরার এক ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে দুইজন ইস্পাহানী গ্রুপের মালিকানাধীন এ নেপচুন চা বাগানে কাজ করেন। তার স্বামী বিশু কুমার ত্রিপুরাও চা বাগানের শ্রমিক। তার ছোট তিন মেয়ে বাগানের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

মেজ মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, চতুর্থজন স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম এবং ছোট মেয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন, পুরস্কারের জন্য ভালো লাগছে। এটা চা পাতা তোলার কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ভালো খবর।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমি পড়ালেখা করিনি। আমার জন্ম, বড় হওয়া বিয়ে সবই এই চা বাগানে। ছোটবেলা থেকেই এখানে কাজ করছি। কাজ করতে করতেই দ্রুত চা পাতা তোলার কাজ শিখেছি।

পড়ালেখা করা তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ যেন সুন্দর হয় এজন্য এখনও কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি সবার আর্শীবাদ কামনা করেন। উপলক্ষী ত্রিপুরা ছাড়াও বাকি সাত ক্যাটাগরিতে সাত চা বাগান পেয়েছে এবারের পুরস্কার।

Back to top button