বগুড়ায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সংবাদ সম্মেলন: সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আজ (৮ আগস্ট, শনিবার) দুপুর ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। সম্মেলনে “আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৮) ধারার যথাযথ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ফিলিমন বাস্কে’র সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম’র সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খোকন সুইটেন মূর্মূ। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি রঘুনাথ এক্কা, কোষাধ্যক্ষ মার্টিন মূর্মূ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবি সরেন, বগুড়া জেলা সভাপতি সন্তেুাষ সিং বাবু, পাবনা জেলা সভাপতি আশিক বানিয়াস প্রমূখ। এছাড়াও সংহতি বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সমন্বয়ক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে, সংবিধানে আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, সমতলের আদিবাসীদের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন, ভূমি রক্ষা এবং জবরদখল ও বেহাত হওয়া ভূমি উদ্ধারে পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৮) ধারার যথাযথ বাস্তবায়ন করা, গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া, প্রতিটি জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে আদিবাসীদের এগিয়ে নিতে ৫% কোটা সংরক্ষণ করা, আদিবাসীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত, সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়নসহ সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, বাদপড়া আদিবাসীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা, চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা বাস্তবায়ন করাসহ ক্ষমতাসীন বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবি সমূহ:
১. সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে;
২. আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে;
৩. রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৮) ধারার বাস্তবায়ন করতে হবে;
৪. দখলি শর্তে খাস জমি, বসতভিটা, কবরস্থান, পুকুর আদিবাসীদের নামে প্রদান করতে হবে;
৫. বনায়নের নামে আদিবাসীদের জমি বনবিভাগের দখল ও মামলা-হয়রানি থেকে মুক্ত করতে হবে;
৬. আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে কোন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বে সরকারকে আদিবাসীদের সাথে আলোচনা করতে হবে এবং প্রয়োজনে এনভায়রনমেন্টাল ইম্প্যাক্ট এসেসমেন্ট রির্পোর্টের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করতে হবে;
৭. সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর সম্পত্তি প্রকৃত জমি মালিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে ও ৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে;
৮. সকল আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে ও আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমপক্ষে একজন করে আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে;
৯. আদিবাসীদের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে ৫% কোটা সংরক্ষণ করতে হবে;
১০. প্রতিটি আদিবাসী অধ্যূষিত জেলায় আদিবাসীদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি রক্ষা-চর্চার অনুকূল পরিবেশ, গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্তুতসহ সাংস্কৃতিক একাডেমী প্রতিষ্ঠা পূর্বক দ্রুত জনবল আদিবাসীদের মধ্যে থেকে নিয়োগ করতে হবে;
১১. আদিবাসী ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করতে হবে;
১২. জাতীয় সংসদে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য চারটি সংরক্ষিত নির্বাচনী এলাকা গঠনের জন্য আইন প্রণয়ন ও দুইটি সংরক্ষিত আদিবাসী নারী আসনের ব্যবস্থা করতে হবে;
১৩. বাদপড়া আদিবাসীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে;
১৪. আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে;
১৫. চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা বাস্তবায়ন করতে হবে;
১৬. বর্তমান সরকারের ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত আদিবাসীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।


