আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ১২ দেশ

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন। উক্ত কোয়ালিশনে থাকা ১২ টি দেশ আজ বৃহষ্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই উদ্বেগ জানায়। বিবৃতিদাতা দেশসমূহ হলো অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বাংলাদেশে মিডিয়া কোয়ালিশন (MFC) এর নিম্নস্বাক্ষরকারী সদস্যদেশসমূহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের উপর সহিংসত, আল জাজিরার লন্ডন-ভিত্তিক সাংবাদিকের ভাইয়ের উপর হামলা, ঢাকা ট্রিবিউনের আলোকচিত্র সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সম্প্রতি প্রথম আলোর সাংবাদিকের আটকের খবর।

বিবৃতিদাতা দেশসমূহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে উপরোক্ত প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধও জানান।

উল্লেখ্য যে, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামসকে সাভারে তার নিজ বাসা থেকে গতকাল ভোর রাত ৪ টায় সিআইডি পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে জানা যায় মো: গোলাম কিবরিয়া নামের এক বাদী তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৫(২), ২৬(২), ২৯(১), ৩১(২), ৩৫(২) ধারায়‘ তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এর পর গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে অ্যাডভোকেট আবদুল মশিউর মালেক নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, পত্রিকাটির সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামস, সহযোগী একজন ক্যামেরাম্যান এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় শামস’কে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ৩০ ঘন্টা পর আদালতে তোলা হচ্ছে বলে প্রথম আলো সূত্রে জানা যায়।

এদিকে গত ১৭ মার্চ ইউরোপ প্রবাসী আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খানের ভাই মাহিনুর আহাম্মেদ খানের ওপর হামলা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে মামলা করে মাহিনুর আহাম্মেদ খান। এজাহারে মাহিনুর আহাম্মেদ খান বলেন, ১৭ মার্চ রাত আটটার দিকে মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় বাসার সামনের একটি মুদিদোকান থেকে ঘড়ির ব্যাটারি কিনতে বের হন তিনি। বাসার সামনের রাস্তায় হঠাৎ করে চারজন পেছন থেকে রড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করেন। ‘নতুন সাংবাদিক হয়েছ, দেশ নিয়ে লেখো’—এই কথা বলে তাঁরা মারধর করতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন চলে এলে তাঁরা হুমকি দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যান।

এর আগে গত ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। উক্ত দিন দুপুর ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

Back to top button