অন্যান্য

নিরাপত্তাহীনতায় জুম্মরা নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে: ঊষাতন তালুকদার

নিরাপত্তা হীনতায় জুম্মরা নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। আজ শুক্রবার(১৭ ফেব্রুয়ারী) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শ্রী ঊষাতন তালুকদার এই কথা বলেন।

সাবেক সাংসদ ও জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি শ্রী ঊষাতন তালুকিদার বলেন,” পার্বত্য চট্টগ্রাম যদি অশান্ত থাকে এই বাংলা শান্ত থাকতে পারে না। তাই আসুন আমাদের এই অধিকারের আন্দোলনে বাংলার ষোল কোটি মানুষকে সম্পৃক্ত করি। আপনারা পাহাড়ের মানুষকে দূরে ঠেলিয়ে দিবেন না তাদেরকে বুকে আগলিয়ে ধরে রাখতে হবে। তারা বেশি কিছু চায়না। তারা চায়, নিজ ভূমিতে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। এই জুম্ম জনগণের বেঁচে থাকার রাস্তা যেন বন্ধ করে দেওয়া না হয়। আর কোন বিলম্ব, কালক্ষপেণ নয়, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে আপনারা সকলেই আন্তরিক হয়ে এগিয়ে আসুন।”

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং(শুক্রবার) পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের জে. এম. সেন হলে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। “জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই পাহাড়ে শান্তি ও সুষম উন্নয়নের একমাত্র উপায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র সহ-সভাপতি শ্রী ঊষাতন তালুকদার মহোদয়।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ী শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিশান তঞ্চঙ্গ্যা এবং সঞ্চালনা করেন অনিল বিকাশ চাকমা।

এছাড়াও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি প্রকৌশলী পরিমল কান্তি চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, চট্টগ্রামের সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্রী নিতাই প্রসাদ ঘোষ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি শ্রী তাপস হোড় ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার চৌধুরী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন বাদল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ),চট্টগ্রামের আল কাদেরী জয়, ঐক্য ন্যাপ, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অজিত দাশ প্রমুখ।

জাতীয় সংগীত ও জনসংহতি সমিতির দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল আলোচনা সভা শুরু হয় বিকাল ৩:০০ ঘটিকায়। এসময় জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ।

প্রারম্ভিক বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার আরো বলেন, “উদ্দেশ্য-লক্ষ্য পরিপূরণের হাতিয়ার সংগঠন। সংগঠনের মধ্য দিয়ে কোন দল তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৭২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইতিহাসের দাবীতে এবং বাস্তবতার কারণে এই দল গঠিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশভাগ, কাপ্তাই বাঁধ, সংবিধানে বাঙালিকরণের মতো ক্ষত জুম্ম জনগণকে জর্জরিত করেছিল। অধিকারহীন এই জনগোষ্ঠীকে মরণ ফাঁদ থেকে বাঁচানোর জন্য এম এন লারমারা এগিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ দুই যুগ সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হলো ‘৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আই ২৫ বছর পরও স্বয়ং যে সরকার চুক্তির স্বাক্ষর করেছে সেই সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করেনাই। আইন-শৃঙ্খলা, বনবিভাগ, ভূমি অধিকার, শরণার্থী পুনর্বাসন দেওয়া হয়নাই। শুধু চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি তা মুখে বললে হবেনা, বাস্তবে কী হয়েছে সেটা সাধারণ জনগণ বুঝে।এজন্য আন্তরিকতা সাথে এগিয়ে আসতে হবে। কোনকিছু বলার অধিকার সেখানে নেই।”

“পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি খুবই নাজুক দাবি করে তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা হীনতায় জুম্মরা নিজ ভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা সেটা সরকারও স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এই সমস্যা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধান করা সময়ের দাবী। একমাত্র পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই যা সম্ভব। যতক্ষণ না দেশের সচেতন নাগরিক এগিয়ে না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে-আমাকে এই চুক্তির গুরুত্ব বুঝাতে হবে। আজকে এই সরকার পাহাড়ী মানুষকে কেন শত্রু মনে করে। অহেতুক কারণ দেখিয়ে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্যে আজ একটা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এজন্য বাংলার মানুষ যদি এই চুক্তির মর্ম না বুঝে তার বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এক নাগরিক আরেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করতেছে সরকার এখানে কী করছে! সরকার চাইলে এই সব কিছু বন্ধ করতে পারে তাই এখানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপস্থিত শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও নাগরিক সমাজের ব্যক্তিবর্গ। অবশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Back to top button