‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃত স্বাধীনতা আজও আসেনি’: ড. নিম ভৌমিকের স্মরণসভায় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান

আইপিনিউজ বিডি, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকাঃ ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃত অর্থে আজও স্বাধীন হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বাঙালি ও আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষা করা না গেলে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হবে না। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর দেশত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার নেতা অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এ স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও।
স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করলেও প্রকৃত অর্থে আজও স্বাধীন হতে পারেনি। বর্তমান সমাজের অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের পা ওপরে উঠে গেছে, আর মাথাগুলো নিচে পড়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় জ্ঞানী-গুণীর জন্মস্থান হলেও আজ তা বৃহৎ মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ বাঙালির থাকবে, নাকি স্বাধীনতাবিরোধীদের পাকিস্তান হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর একজন মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি আদিবাসী সংস্কৃতি রক্ষা করা না গেলে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হবে না। তিনি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে দেশত্যাগ না করার আহ্বান জানান এবং সব বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্মরণসভায় অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে পড়েছে। শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার বিপর্যস্ত। শুধু নামের কারণে সংখ্যালঘুদের চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটছে। তিনি ড. নিম ভৌমিককে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও মানবতাবাদী হিসেবে অভিহিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ যতটা এগিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে দেশ আজ অনেক দূরে সরে গেছে। সাংবাদিক আবু সাঈদ খান গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সরকার ও সরকারি দলকে মৌলবাদ তোষণের নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশ ও জাতি আরও গভীর সংকটের মুখোমুখি হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিজন কান্তি সরকার ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের স্মৃতিচারণা করে বলেন, তিনি আজীবন বস্তুনিষ্ঠ ও প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করে গেছেন। আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং বলেন, ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন এক অস্থির ও সংকটময় সময়ে।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক ড. স্বরূপ কুমার আদিত্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যাডভোকেট দীপঙ্কর ঘোষ প্রয়াত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকের জীবনপঞ্জি পাঠ করেন। স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। সভায় প্রয়াতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


