আঞ্চলিক সংবাদ

বাঘাইছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন শিজক কলেজ শাখার ১২তম সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

আইপিনিউজ বিডি, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ “সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ইস্পাতদৃঢ় জুম্ম জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি, জুম্ম জনগণের মুক্তির সনদ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে জুম্ম নারী সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে অধিকতর সামিল হোন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বটতলা কমিউনিটি সেন্টারে হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ), শিজক কলেজ শাখার ১২তম সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সদস্য জ্যোতিষ্মান চাকমা। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সভাপতি লক্ষ্মীমালা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সদস্য সুমেট চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চন্দ্রিকা চাকমা এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) বাঘাইছড়ি থানা শাখার সহ-সভাপতি উদ্দীপন চাকমা।

এইচডব্লিউএফ বাঘাইছড়ি থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক ভূমিকা চাকমার সঞ্চালনায় কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির বাঘাইছড়ি থানা শাখার সভাপতি সুমনা চাকমা। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এইচডব্লিউএফ বাঘাইছড়ি থানা শাখার অর্থ সম্পাদক ত্রয়া চাকমা।

সম্মেলনের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদ মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাসহ এ পর্যন্ত আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জ্যোতিষ্মান চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ যুগ যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই এ অঞ্চলের জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে এবং তারা জানে কীভাবে অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।

তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা করছে, যা আর সহনীয় নয়। চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের মধ্যে হতাশা ও আশাহীনতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার শিক্ষিত তরুণ সমাজকে গ্রামে ফিরে গিয়ে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার যে আহ্বান ও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা অনুসরণ করে তরুণদের গ্রামে ফিরে আন্দোলন সুসংগঠিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। এ জন্য জুম্ম জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।

লক্ষ্মীমালা চাকমা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সমৃদ্ধশীল চিন্তার অধিকারী হতে হবে। আন্দোলন সম্পর্কে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কার্যকরী জ্ঞান থাকতে হবে। তরুণ সমাজকে আন্দোলন বিমুখ হলে চলবে না। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, হাল ধরতে হবে জাতির। আজকে যারা যুক্ত হবে তাদের আহ্বান রইল যেন তারা অধ্যয়ন করে সঠিক আদর্শে মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিচালিত করে। ঐক্যবদ্ব আন্দোলনের বিকল্প নেই বর্তমান সময়ে।

সুমেট চাকমা বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা, অবহেলা ও অবজ্ঞার শিকার হন। এসব বাধা অতিক্রম করে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজের অর্ধেক অংশকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না। আন্দোলনের ক্ষেত্রেও নারীদের ভূমিকা অপরিহার্য। হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মীদের নারী সমাজকে সংগঠিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ববর্তী আন্দোলনে জুম্ম নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বর্তমান প্রজন্মের নারীদেরও জাগ্রত ও সংগঠিত করার আহ্বান জানান।

চন্দ্রিকা চাকমা বলেন, লড়াই সংগ্রামের ভূমি বাঘাইছড়িতে এই প্রথম আমার আসা, তবে শুনেছি পার্টির কঠিন সময়ে এখানকার জুম্ম জনগণের আকুন্ঠ সমর্থন সহযোগিতার কথা।আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা খুবই নাজুক। কঠিন পরিস্থিতির মধ্য ঠিকে থাকতে গেলে নিজেকে নিয়ে আগে সংগ্রাম করতে হবে। নিজেকে জানার বুঝার জন্য তাই জরুরী অধ্যয়ন।একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য তা আবশ্যক।এ সংগঠন বহু তেজোময়ী শাসকের চক্ষুশুল নেতৃত্ব জন্ম দিয়েছে তার মধ্য আমাদের সবার পরিচিত সংগ্রামী নেত্রী কল্পনা চাকমা। তাদের আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সংগ্রামকে ধারণ করতে হবে আমাদের। জনগণের কাছে গিয়ে জনগনকে সম্পৃক্ত করার কাজ করতে হবে।

উদ্দীপন চাকমা বলেন, সংগ্রামী নারী নেত্রী কল্পনা চাকমা ছিলেন এক সংগ্রামের নাম। আমাদের মাঝে নেতৃত্বের অপূর্ণতা
রয়েগেছে, তা বর্তমান নারী নেতৃত্বদ্বয়কে পূরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।লড়াইয়ে ময়দানের সংগ্রামী নেত্রী কল্পনা চাকমার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সঠিক লক্ষ্য ও আদর্শকে ধারণ করে নারী সমাজকে সুসংগঠিত করতে হবে। সমাজের একটি বিরাট অংশজুড়ে নারীদের অবস্থান, পরিবর্তিত সমাজ ও জাতি বিনির্মানে তাদের ভূমিকা কোথাও কোনো অংশে কম হতে পারে না।

কাউন্সিল অধিবেশনে ত্রয়া চাকমাকে সভাপতি, রত্না চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং ঝরিনা চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট এইচডব্লিউএফ বাঘাইছড়ি শিজক কলেজ শাখা কমিটি গঠন করা হয় এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ পাঠ করান এইচডব্লিউএফ রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এলি চাকমা।

Back to top button