বিশেষ প্রতিবেদনশিক্ষা

জুরাছড়ির তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি অভিভাবকদের

আইপিনিউজ বিডি, ১ অক্টোবর ২০২৬, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ত্যাগ করা এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান না করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগগুলো হলো, উপজেলার ৪ নম্বর দুমদুম্যা ইউনিয়নের দুলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও তারা প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখতে পাননি। তারা অভিযোগগুলোর সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

দুলুছড়ি বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ: দুলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়মিত পাঠদানের অভিযোগ তুলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকার সচেতন নাগরিকরা। আবেদনে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিন্টু চাকমার বিরুদ্ধে ২০ আগস্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান না করার অভিযোগ করা হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমুত রঞ্জন চাকমার বিরুদ্ধেও ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষকরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান অবনতির দিকে যাচ্ছে। আবেদনে আরও বলা হয়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও সন্তোষজনক কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আনন্দপাড়া বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ: আনন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগেও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অভিভাবকরা। আবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বীরভতী চাকমা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিদ্যালয় ত্যাগ করে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্রিম হাজিরা প্রদান করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময়ের পরও তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

বালুছড়া বিদ্যালয় নিয়েও অনিয়মিত পাঠদানের অভিযোগ: বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়ে গত ২২ জুলাই ২০২৬ জুরাছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিটু চাকমা এবং সহকারী শিক্ষক পাণ্ডব কুমার চাকমার বিরুদ্ধে ১ জুন থেকে ২১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত যথাযথভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক সময় শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। আবার কখনো নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন কিংবা শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করেন না। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের শিক্ষার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও সন্তোষজনক পরিবর্তন হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুরাছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক পরিবার আর্থিক ও ভৌগোলিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন। এসব পরিবারের সন্তানদের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলে এবং যথাযথভাবে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের সময়সূচি এবং শিক্ষক উপস্থিতি যথাযথভাবে তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

Back to top button