জাজং নকরেকের ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন – ‘আ’বিমা: বন, মানুষ ও অস্তিত্বের গল্প’

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর দৃকপাঠ ভবনে আদিবাসী জনগোষ্ঠী গ্র্যান্ট ২০২৫ বিজয়ী আলোকচিত্রী জাজং নকরেকের উপস্থাপনায় ‘আ’বিমা: বন, মানুষ ও অস্তিত্বের গল্প’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই ভেন্যুতে চলমান আছে বাংলাদেশ প্রেস ফটো প্রদর্শনী ২০২৬।
জাজং নকরেক তার কাজের মধ্য দিয়ে তুলে এনেছেন গারোদের গল্প, যারা নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দেন। মান্দি অর্থ মানুষ। তার তোলা ছবিতে উঠে এসেছে ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, যাকে মান্দিরা আ’বিমা বা মাটির মা বলেন, আর মধুপুর শালবনে বসবাসকারী মান্দি জনগোষ্ঠীর কাছে বন কখনোই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ নয়। এটি তাদের খাদ্যের উৎস, কৃষির ভিত্তি, ভেষজ চিকিৎসার ভাণ্ডার, আধ্যাত্মিক আশ্রয় এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির ধারক।
জাজং আরও বলেন, এই সহাবস্থানের ইতিহাস আজ গভীর সংকটের মুখোমুখি। বন উজাড়, রাবার বাগান, ভূমি দখল, তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাষ্ট্রীয় বন ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের ফলে শুধু বনভূমির আয়তনই কমছে না; হারিয়ে যাচ্ছে একটি আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থা, ভাষা, আচার ও পৃথিবীকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি। এই কাজ শুধু মান্দি জনগোষ্ঠীর গল্প নয়। এটি মানুষ, বন এবং ভূমির শিকড়ের সম্পর্ককে আবার নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমাদেরকে ভাবায়—একটি বন হারিয়ে গেলে, আমরা কি শুধু গাছ হারাই, নাকি হারিয়ে ফেলি একটি জনগোষ্ঠীর স্মৃতি, জ্ঞান এবং পৃথিবীকে দেখার একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।
উপস্থাপনার শুরুতে গ্র্যান্ট কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন দৃক-এর প্রতিষ্ঠাতা, আলোকচিত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট শহিদুল আলম এবং গ্র্যান্টটির মেন্টর ও দৃকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী হাবিবুল হক।
টাঙ্গাইলের মধুপুরের বাসিন্দা জাজং নকরেক বাংলাদেশ প্রেস ফটো প্রতিযোগিতা (বিপিপিসি) এর তৃতীয় ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী গ্র্যান্ট’ বিজয়ী। তার গ্র্যান্ট প্রকল্পের আলোকচিত্রগুলো চলমান প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে জাজং নকরেক আইপিনিউজকে বলেন, দৃককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এই সুযোগের জন্য। আবিমার বন ও মানুষর সম্পর্ক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দারুণ একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেটি আগামী দিনে আরও বড় স্কেলে কাজ করতে সাহায্য করবে। আবিমা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে জেনেছি, এখানে এক বছরের কাজ যথেষ্ট নয়। তাই আগামী দিনে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আমার এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।
দৃক কর্তৃক ২০২২ সালে শুরু করা এবারের পঞ্চম বাংলাদেশ প্রেস ফটো প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত ৩২টি ছবি নিয়ে সাজানো এই প্রদর্শনীটি আগামী আগস্ট ১২, ২০২৬ পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


