ইচ্ছালছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে পান গাছ কাটার অভিযোগ, উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা স্থানীয় খাসিয়াদের

আইপিনিউজ বিডি, ২ আগস্ট, ২০২৬, ডেক্স রিপোর্টঃ মৌলভীবাজারের ইচ্ছালছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান গাছ কেটে দেওয়া, হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পুঞ্জিবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বন বিভাগকে ব্যবহার করে তাদের বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান উৎস পান বাগান ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
স্থানীয় খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা জানান, ২০২২ সাল থেকে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় তাদের উচ্ছেদের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের গাছ, পান গাছ ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে উল্টো পুঞ্জিবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রভাবশালী মহল বন বিভাগের মাধ্যমে পুঞ্জির জমি ও বনাঞ্চল দখলের চেষ্টা করছে। তারা জানান, দুর্বৃত্তরা জুম এলাকায় গাছ কাটলেও বাধা দিতে গেলে উল্টো খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
পুঞ্জিবাসীদের দাবি, অনেক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। একই পরিবারের মা, বোনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তাদের মতে, প্রতিটি পরিবারের ওপর একাধিক মামলা থাকায় তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
ইচ্ছালছড়া পুঞ্জির বাসিন্দারা বলেন, খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার প্রধান ভিত্তি হলো পান চাষ। পান গাছ ধ্বংস হয়ে গেলে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রাকৃতিকভাবে পান গাছ বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় গাছপালা নষ্ট করা হলে ভবিষ্যতে নতুন পান বাগান তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শত শত বছর ধরে এই পাহাড়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের বসবাস। এই পাহাড় আমাদের পরিচয়, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ইতিহাস, আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এই পাহাড়ের পান বাগান, সুপারি গাছ, বনজ সম্পদ—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের অস্তিত্ব।
তারা আরও বলেন, মামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে তাদের সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পুঞ্জির মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।
ভুক্তভোগী খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পান বাগান রক্ষা এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


