সাজেকে সড়ক অবরোধের মধ্যে চিকিৎসার অভাবে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

আইপিনিউজ বিডি, ৮ অক্টোবর ২০২৬, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ প্রায় এক মাস ধরে চলমান সড়ক অবরোধের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে চলমান এ অবরোধের পেছনে প্রসীতপন্থী ইউপিডিএফের ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীর অভাবে এক প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
নিহত প্রসূতি মায়ের নাম ওয়ারেন্টি ত্রিপুরা (২৬)। তিনি বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম জৌপুই পাড়ার বাসিন্দা। গতকাল শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সড়ক অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা আগেভাগে তাঁকে বাঘাইছড়ি কিংবা খাগড়াছড়ির হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেননি। অবরোধের পরিস্থিতিতে যাতায়াতের অনিশ্চয়তা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁরা হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ওঝার মাধ্যমে চিকিৎসার কথা ভাবতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।
এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সড়ক অবরোধের কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া এবং সাজেকের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা সংকট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাজেকের প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষিত ধাত্রী এবং জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও শিশুরা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, নিকটবর্তী উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রের অভাব এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় সামান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতাও অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। ওয়ারেন্টি ত্রিপুরার মৃত্যু সাজেকের দীর্ঘদিনের অবহেলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান দহিন্দ্র লাল ত্রিপুরা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়ন আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ইউনিয়ন। এর অধিকাংশ এলাকাই অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি জনপদ হওয়ায় যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থায় চরম সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় চোখের সামনে এভাবেই অকালে প্রাণ ঝরছে।”
তিনি সাজেকের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা ও রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে সাজেক এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অবরোধের ফলে স্বাভাবিক যাতায়াত ও জরুরি সেবাপ্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে।


