শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারনের দাবি

আইপিনিউজ ডেক্স(ঢাকা): গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দেশের ৩৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ-এর তালেবানী বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সাথে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জেনেছি যে, ২০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে আয়োজিত তথ্য অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে গিয়ে বলেছেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, এখানে (বিশ্ববিদ্যালয়) ওপেন কালচার ছিল, ছেলেমেয়েরা যা খুশি, তা-ই করতে পারত। কেউ কিছু বলতে পারত না। কারণ, তাদের বয়স ১৮ বছর। কিন্তু আমি বলেছি, সাড়ে ১০টার মধ্যে হলে ঢুকতে হবে। তারা (শিক্ষার্থী) এটার নাম দিয়েছে তালেবানি কালচার। তালেবানি কালচার নিয়ে আমি খুবই গৌরবান্বিত, এটা নিয়ে থাকতে চাই। আমি ওপেন কালচার চাই না।’ তালেবানি কালচার নিয়ে তিনি গৌরবান্বিত এবং এটা নিয়েই তিনি থাকতে চান এমন বক্তব্য একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে থাকা উপাচার্য কিভাবে সদর্পে উচ্চারন করেছেন সেটাই আমাদের জিজ্ঞাসা।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিগত তিন দশকে আফগানিস্তানের তালেবানরা যা করেছে তা থেকে সংবাদ মাধ্যমের যে কোন পাঠক-শ্রোতা দর্শকের জানা যে, তালেবানী সংস্কৃতির সাথে ধর্ম পালন বা ধর্ম বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই। এটি একটি চরম সম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ ও নারী-বিদ্বেষী রাজনৈতিক মতবাদ। এই মতবাদ নারীর সমমর্যাদা, সম্মান, শিক্ষা ও কাজের অধিকার সহ সকল স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে। তালেবানরা ২০২১ সালে নতুনভাবে ক্ষমতা দখলের পর নারীদেরকে শুধু গৃহবন্দী করেছে তা নয়, প্রাথমিক শিক্ষার পর তাদের উচ্চ শিক্ষা লাভের অধিকার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা এবং বাইরে কাজ করার অধিকার কেড়ে নিয়ে এক ভয়াবহ বৈষম্য-নির্যাতনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
উপাচার্যের পদে থাকা একজন দায়িত্বশীল শিক্ষাবিদ হিসেবে এ সকল তথ্য তার অজানা তা বিশ্বাস করা যায় না। তাই তিনি যা বলেছেন তা জেনেশুনে দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন বলে মনে করা খুবই যুক্তিসংগত বলে আমরা মনে করি। আর তাকেও আমরা একজন নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য, নারীদের অসম্মান ও অমর্যাদা করা কিংবা নারী বিদ্বেষী মতাদর্শের সমর্থক বা উৎসাহদাতা বলেই বিবেচনা করতে পারি। এই উপাচার্য ২০২২ সালেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের চরিত্র নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। তখন জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র-শিক্ষকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তার এই বক্তব্যে সমাজের ব্যাপক সংখ্যক মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যা মোটেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে যাতে কোন চরম সাম্প্রদায়িক, নারী বিদ্বেষী এবং নারীর স্বাধিনতা ও অধিকারের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি নিয়োগ না পায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের লক্ষ্যে দাবি জানানো হয় উপাচার্যের উল্লেখিত সাম্প্রদায়িক, অশালীন ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এমন রুচিহীন, আপত্তিকর বক্তব্যের প্রদানের জন্য যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তাকে অপসারন করা, ভবিষ্যতে সংবিধানে স্বীকৃত নারীর সম অধিকার ও মর্যাদাকে অসম্মানসূচক আচরনে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি উপাচার্যের মতো সম্মানীয় ও দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ না পায় তার জন্য অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদের মতো সাম্প্রদায়িক ও নারী বিদ্বেষী ব্যক্তিরা আর কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তার একটি তালিকা প্রকাশ করা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর প্রদানকারীরা হচ্ছেন সুলতানা কামাল, রাাশেদা কে. চৌধুরী, খুশী কবির, ড. হামিদা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এড. সালমা আলী, শিরীন হক, অ্যাড. জেড আই খান পান্না, রাণা দাশগুপ্ত, শামসুল হুদা, আনু মোহাম্মদ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. স্বপন আদনান, ড. সুমাইয়া খায়ের, প্রফেসর রোবায়েত ফেরদৌস, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, নাসরিন খন্দকার, প্রফেসর ফেরদৌস আজিম, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, তবারক হোসেইন, রাহনুমা আহমেদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জাকির হোসেন, নির্বাহী পরিচালক, ব্যারিস্টার মো: আশরাফ আলী, এ্যাড. মিনহাজুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহাদাত আলম, ব্যারিস্টার শুভ্র চক্রবর্তী, এ্যাড. সাইদুর রহমান, নুর খান, দীপায়ন খীসা, জোবাইদা নাসরীন কণা, হানা শামস আহমেদ প্রমুখ।


