জাতীয়

পল্লীকবি রাধাপদ রায়ের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ

পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই মুসলিম যুবকের দ্বারা হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পল্লীকপি রাধাপধ রায় (৮০)। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই ন্যাক্কার জনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে দেশের ২৫ জন বিশিষ্টজন এবং মানবাধিকারকর্মী এক যৌথ বিবৃতিতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার স্বভাব-কবি রাধাপদ রায় (৮০) অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি এ ঘটনায় যাতে কোনো প্রকার মামলা দায়ের করা না হয়, এ জন্যও রাধাপদ সরকারের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সংবাদসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে উপজেলার ভেতরবন্দ ইউনিয়নের গোদ্দারেরপাড় এলাকার নিজ বাড়িতে কবি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। লাখো শহীদের রক্ত হাত বাংলাদেশের একজন কবির উপর নির্যাতনের ঘটনায় আমরা লজ্জিত বিব্রত ও ব্যথিত।

রাধাপদ সরকারকে নির্যাতনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সংস্কৃতিজনের উপর হামলা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কিছু দিন আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল শিল্পী ও নাট্যকর্মীর উপর হামলা, বাউলের বাদ্যযন্ত্র ও পাণ্ডুলিপিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যার কোনোটিই রাষ্ট্র ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি।

আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দায়ি। আমরা রাধাপদ সরকারের উপর হামলার ঘটনাটিতে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করে দেওয়ার যে আয়োজন দেশব্যাপী চলছে, তার সাথে এই ঘটনাকে পৃথক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো কারণ বা প্রকারেই এ ধরনের ঘটনা ঘটুক না কেন এর পিছনে একটি বৃহৎশক্তি রয়েছে, যারা দেশ থেকে সংস্কৃতি চর্চা নির্বাসনে পাঠাতে চায়, যারা রাধাপদ সরকারের মতো সংস্কৃতিসেবীদের একের পর এক আক্রমণ করে চলেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপোষণকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিন দিন যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে আামদের সংস্কৃতিকর্মী কিংবা সাংস্কৃতিক আয়োজন বাড়েনি। বরং জাতীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে প্রত্যেক সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। একইসাথে কুড়িগ্রামের সংস্কৃতি কর্মী নির্বিশেষে রাধাপদ সরকারের পাশে থাকবেন এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর প্রদান করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল, রাশেদা কে. চৌধুরী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এর প্রেসিডিয়াম সদস্য রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, খুশী কবিরঅ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অধ্যাপক এম. এম. আকাশ, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সালেহ আহমেদ, ড. জোবায়দা নাসরিন, অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, দীপায়ন খীসা, অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, ড. সেলু বাসিত, এ কে আজাদ, জহিরুল ইসলাম জহির, জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, অলক দাস গুপ্ত, আবদুল আলীম, আব্দুর রাজ্জাক, গৌতম শীল প্রমুখ।

Back to top button